আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৪ জানুয়ারি || বহু প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হল আগরতলাস্থিত এম বি বি বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন। বুধবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বোতাম টিপে এম বি বি বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেন।
এদিন রাজ্য সফরে আসের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মনিপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবার পর ত্রিপুরায় আসেন তিনি। এখানে এম বি বি বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি। পাশাপাশি এদিন রাজধানীর স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে এক জনসভায় রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ রাখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শুরুতেই প্রথমে বাংলা ভাষায় এবং দ্বিতীয়ত ককবরক ভাষায় সম্ভোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী উনার ভাষণে বলেন, ত্রিপুরায় মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর বিশাল কার্গো সেন্টারে পরিনত হচ্ছে। যার মাধ্যমে কম খরচায় রাজ্যের অর্গানিক চাষের মাধ্যমে উৎপন্ন দ্রব্য খুব সহজে বিদেশের বাজারে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য ত্রিপুরার শিক্ষা ও স্থাপত্যেকে এক অন্য উচ্চতা প্রদান করেছিলেন। আজ ত্রিপুরার এই বিকাশ দেখে তিনি খুব খুশি হবেন। ত্রিপুরাকে উত্তরপূর্বাঞ্চলের গেইটওয়ে বানানোর জন্য জোর কদমে কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এখানে আসার আগে নবনির্মিত এম বি বি বিমানবন্দরে গিয়ে দেখলাম যে সেখানে ত্রিপুরার ঐতিহ্য, ভাস্কর্য্য ও শিল্পকলার দারুণ সমন্বয় করা হয়েছে। এ যেন সম্পূর্ণ ত্রিপুরাকে এক জায়গায় সংকলিত করার মতো। এখানে ডোমেস্টিক কার্গো ও হিমঘর তৈরি হয়ে গেলে এই বিমানবন্দর সমগ্র উত্তরপূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যকে শক্তিশালী করে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় এখানে দুর্নীতি থামার কোন সুযোগই ছিল না, আর বিকাশের চাকা থেমে ছিল। তাদের কোন দিশা এবং ইচ্ছা কোনটাই ছিল না। ত্রিপুরার সঙ্গে দারিদ্রতা ও পিছিয়ে থাকা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দেওয়া হিরার আশ্বাস মতো, এখন ত্রিপুরা সার্বিকভাবে সংযুক্ত হচ্ছে।
এখানকার বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সরকার যে পরিমান বিনিয়োগ করছে তা এর আগে কোন সরকার করেনি। ত্রিপুরা এখন বাণিজ্যের হাব ও করিডোর রূপে উঠে আসছে। আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগের কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে ১৫ থেকে ১৮ বছরের যুবাদের বিনামূল্যে কোভিড টিকাকরণের অভিযান শুরু হয়েছে। ত্রিপুরায় ইতিমধ্যে ৮০% প্রথম ডোজ ও ৬৫% দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি ১৫ থেকে ১৮ বছরের সম্পূর্ণ টিকাকরণেও ত্রিপুরা দ্রুত সফল হবে।
তিনি বলেন, ত্রিপুরার বিদ্যার্থীরা এখন বিদ্যাজ্যোতী প্রকল্পের সুবিধা লাভ করবে। এর ফলে আধুনিক ল্যাবের সুবিধার লাভ নিয়ে বিদ্যালয়গুলিতে ইনোভেটিভ ও ইউনিকর্নযুক্ত পড়াশুনার মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারতের জন্য ত্রিপুরার যুবাদের গড়ে তুলবে।
ত্রিপুরায় অর্গানিক ফার্মিং-এর ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন বাজারে মার্কেট তৈরি করছে। বর্তমানে রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল কিষান ট্রেনের মাধ্যমে কম খরচায় দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রে এবং রাজ্যে যখন বিকাশমুখী সরকার থাকে তখন রাজ্যের বিকাশ দ্বিগুন হারে হয়। ডাবল ইঞ্জিন সরকার মানে সংশাধনের সঠিক ব্যবহার, সংবেদনশীলতা, জনতার সামর্থ বৃদ্ধি, সেবা ও সমর্পনভাব, সংকল্পের সিদ্ধি, সমৃদ্ধির দিকে একসাথে এগিয়ে যাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ত্রিপুরায় এসে আমি আপনাদের সকলের ভালোবাসা পেয়ে সত্যিই খুব অভিভূত। আর এই ভালোবাসার পরিবর্তে দ্বিগুন বিকাশ ফেরত দেবো আমি আপনাদের।
এদিন স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানের জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, উপ-মূখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেব বর্মণ, শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ, পরিবহনমন্ত্রী প্রনোজিৎ সিংহ রায়, সাংসদ প্রতীমা ভৌমিক প্রমুখ।
