ফাল্গুনের তপ্তরোদে উদ্দীপ্ত মিছিল, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের ডাকে খোয়াইয়ে কৃষক, কৃষিমজুর, জুমিয়াদের জমায়েত, ব্লকে দেওয়া হলো নয় দফা দাবীসনদ

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ মার্চ || ফাল্গুনের তপ্তরোদে পীচঢালা রাজপথ মাড়িয়ে শনিবার উদ্দীপ্ত মিছিল হলো খোয়াইয়ে। শত শত কৃষক, কৃষিমজুর আর জুমিয়াদের জমায়েতে বজ্রনির্ঘোষকন্ঠে ঘোষিত হলো আগামী দিনের হার না মানা লড়াইয়ের বার্তা। খোয়াই ব্লকে দেওয়া হলো নয় দফা দাবীসনদ।
দৈনিক ছয়শো টাকা মজুরিতে বছরে দুইশো দিনের রেগার কাজ, বর্তমান বাজারমূল্য অনুসারে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্বি করে ২০১১ সালের সার্ভে অনুসারে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাসগৃহ নির্মাণের সুবিধা প্রদান, দুই হাজার টাকা সামাজিক ভাতা, পানীয় জল ও সেচের জল, কৃষকের সার বীজ কীটনাশক ঔষধ, গ্রামীণ রাস্তার সংস্কার, আধুনিক জুমচাষে পর্যাপ্ত সহায়তা ও পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয়ের উৎসসমূহের সঠিক ব্যবহার সহ নয়দফা দাবীতে এদিন খোয়াই জেলা সদরে মিছিল জমায়েত সহ গণডেপুটেশনের কর্মসূচীর ডাক দেয় ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের বিভাগীয় পরিষদ। সকাল দশটার পর থেকেই কৃষক ক্ষেতমজুর জুমিয়ারা মহকুমার শহর শহরতলী সহ আশারামবাড়ী, রাজনগর, চাম্পাহাওর, চেবরী, রামচন্দ্রঘাট, বেলছড়া ও পদ্ধবিল ইত্যাদি অঞ্চল থেকে ব্যাপক সংখ্যায় এসে জড়ো হতে থাকেন শহরের কবিগুরু পার্কে রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশে। এখান থেকে হাতে হাতে লাল ঝান্ডা নিয়ে বেলা বারোটায় শুরু হয় গণডেপুটেশনের গর্জমান মিছিল। ওপরে গণগণে সূর্য্যের রক্তিমাভা।রোদে পুড়ে মিছিল এগিয়ে যেতে থাকে অফিসটিলায় ব্লক কার্য্যালয়ের উদ্দেশ্যে।
মিছিলের পুরোভাগে ছিল মূল ফ্লেক্স ব্যানার।ঠিক তার পিছনেই মিছিলে পা মেলানো নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচীর আয়োজক সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শ্যামল দে, সংগঠনের প্রবীণ নেতা নৃপেন্দ্র দত্ত, জেলা সম্পাদক অজয় ঘোষ, জি এম পি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি রঞ্জিৎ দেববর্মা, সহ সম্পাদক পদ্ম কুমার দেববর্মা, গণ আন্দোলনের নেতা নির্মল বিশ্বাস ও সুখেন্দু বিকাশ দে ও কৃষক নেতা বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ছিলেন পুরোভাগে। তার পরেই লালঝান্ডার শ্লোগান সোচ্চার মিছিলে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলা কয়েকশত কৃষক কৃষিমজুর ও জুমিয়া।
মিছিল একে একে বনকর, জননেতা রঞ্জন রায় সেতু, নিবেদিতা পার্ক, হাসপাতাল কর্ণার অতিক্রম করে জেলা শহরের মূল প্রাণকেন্দ্র সুভাষপার্ক বাজারের ওপর দিয়ে পরিক্রমা করে স্বামী বিবেকানন্দ সরণী ও অফিস রোড পার হয়ে একসময় অফিসটিলায় পৌঁছে। এখান থেকে ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের মহকুমা সম্পাদক নন্দলাল গোপের নেতৃত্বে পাঁচ জনের এক প্রতিনিধিদল ব্লক কার্য্যালয়ে গিয়ে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনুরাগ সেনের সাথে সাক্ষাত করে তার হাতে নয় দফা দাবীসনদ তুলে দেন। সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দাবীসনদের সাথে সহমত পোষণ করে তার এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর বিবেচনা করা ও অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পর্কে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের গোচরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
গণডেপুটেশন চলাকালীন সময়ে ব্লক কার্য্যালয়ের বাইরের মাঠে জমায়েতে বক্তব্য রাখেন জি এম পি নেতা রঞ্জিত দেববর্মা, ক্ষেতমজুর নেতা শ্যামল দে ও নৃপেন্দ্র দত্ত। ডেপুটেশন থেকে ফিরে এসে বক্তব্য রাখেন নন্দলাল গোপ। জমায়েতের সভাপতি ছিলেন জি এম পি নেতা হরেন্দ্র দেববর্মা।
নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, নয়দফা দাবী শুধুমাত্র ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের বা কোন বামপন্থী সংগঠনের একার দাবী নয়। এই দাবীসনদ রাজ্যের আপামর মানুষের দাবী।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*