আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৮ মার্চ || রাজ্য সফরে এসে উদয়পুরে অবস্থিত মাতা সতীর ৫১ পিঠের এক অন্যতম পীঠস্থান মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরে পুজো দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে বেশ কিছু সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ৫১ পীঠের অন্যতম পীঠস্থান মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরে পুজো সেন। পাশাপাশি এদিন মাতা বাড়িতে রূপোর দরজার উন্মোচন করেন তিনি।
এদিন হেলিকপ্টারে করে উদয়পুর ছনবনস্থিত ক্রিয়া দপ্তরের মাঠে অবতরণ করেন অমিত শাহ। সেখান থেকে সোজা মায়ের মন্দিরে চলে যান। পূজা দিয়ে আগরতলার উদ্দেশ্য রওনা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। উনার আগমনে প্রশাসনিক স্তরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার বিধায়ক বিপ্লব কুমার ঘোষ জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায় সহ অন্যান্যরা।
মাতাবাড়িতে রুপোর দরজার উদ্বোধন শেষে তিনি রাজধানী আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে এক জনসভায় অংশ নেন।
এরপর বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-জির হস্ত স্পর্শে রাজধানীর আনন্দনগরে ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি পূজন – শিলান্যাস অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
এরপর আনন্দনগরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন নারী স্ব-শক্তিকরণ প্রকল্পের ঘোষণা করেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, ৪ বছর পর যখন আমি ত্রিপুরায় এলাম তখন দেখলাম, যে ত্রিপুরা একসময় ড্রাগস আর নেশার অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, সে ত্রিপুরা এখন আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। আজকে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার আছে বলেই ত্রিপুরার ঘরে ঘরে বিদ্যুত ও করোনার টিকা পৌঁছে গেছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, উত্তর পূর্ব ভারতের প্রথম ফরেন্সিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ ত্রিপুরায় শিলান্যাস হলো। এখান থেকে ডিগ্রী নিয়ে বহিঃরাজ্যে গেলেই চাকরি পাবেন। এখান থেকে শুধু ছাত্র-ছাত্রীরা ডিগ্রী নিয়ে বের হবে তেমন না, অধ্যাপকরাও বের হবেন এখান থেকে।
তিনি বলেন, কংগ্রেসের শাসনকালে প্রায় দিনই দেশে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ হতো। কিন্তু মোদীজি এসে পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে সন্ত্রাসবাদীদের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। ধারা ৩৭০ হটিয়ে কাশ্মীরকে সদার জন্য ভারতের অংশ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা ত্রিপুরাকে দেশের ১ নম্বর রাজ্য বানাবো। যেখানে জঙ্গী, নেশা, অপরাধ ও রাজনৈতিক হিংসা রয়েছে সেখানে উন্নয়ন সম্ভব নয়, যা কমিউনিস্টদের সময় ত্রিপুরায় ছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিপ্লব দেবের সরকারে এগুলির কোনও জায়গা নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার ত্রিপুরার দীর্ঘদিনের ব্রু সমস্যার সমাধান করেছে। আমি ত্রিপুরার যুব মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবো তাঁর দ্বারা নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। আজ ত্রিপুরায় মাথাপিছু আয় ৪ বছরে ১৩% বৃদ্ধি পেয়েছে ও কৃষকদের আয় দ্বিগুন হয়েছে বলেও বক্তব্য রাখেন তিনি।
