অবৈধ বালু বোঝাই গাড়ি আটক, গোপন রফার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বন কর্মীদের বিরুদ্ধে

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২৩ আগস্ট || অবৈধ বালু বোঝাই গাড়ি আটক। গোপন রফার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বনকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনা  মুঙ্গিয়াকামি এলাকায়।
বন দপ্তরের কর্মী হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ ভাবে ভাইটাল ছাড়াই নিজ গাড়ি দিয়ে বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এক বন কর্মী। জানা যায়, মুঙ্গিয়াকামি ফরেস্ট বিট অফিসে কর্মরত এক কর্মী দীর্ঘদিন যাবৎ নিজের নাম্বার বিহীন গাড়ি দিয়ে অবৈধ বালুর ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত বন কর্মীর নাম সঞ্জিত দেববর্মা। বর্তমানে মুঙ্গিয়াকামি বিট অফিসে কর্মরত রয়েছেন। অন্যান্য দিনের মত তার গাড়ি দিয়ে বাইটাল ছাড়া বালু পরিবহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় মুঙ্গিয়াকামি এলাকায় বন দপ্তরের টহলে থাকা কর্মীদের সামনে পরে। যথারীতি গাড়িটিকে আটক করে বৈধ কাগজ পত্র দেখতে চান ডিউটি থাকা দপ্তরের স্টাফ। কিন্তু সঞ্জীত দেববর্মার ড্রাইভার গাড়িতে থাকা বালুর কোন বৈধ কাগজ বা বন দপ্তরের ছাড় পত্র দেখাতে পাড়েনি। গাড়ির মালিক দপ্তরে চাকরি করার সুবাধে ড্রাইভারের কাছ থেকে ডিউটিতে থাকা কর্মীরা ঘোস (ফাইনের নামে) নিয়ে গাড়িটিকে ছেড়ে দেয় বলে খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সংবাদ মাধ্যম পৌছতেই ডিউটিতে থাকা স্টাফ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সাংবাদিকেরা যখন বন কর্মীদের গাড়িটির বিষয়ে জানতে চায় তখন জানানো হয় গাড়িটি সিজ করা হয়েছে। ততক্ষণে অবৈধ বালু বোঝাই করা গাড়ী অন্য রাস্তায় পালিয়ে যায়। এদিকে গাড়িটি মুংগিয়াকামি ব্লক সংলগ্ন এলাকায় সংবাদিকের নজরে চলে আসে।
প্রসঙ্গত বলা বাহুল্য বনদপ্তর কোন গাড়ি সিজ করলে সাধারণত তেলিয়ামুড়া ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসে নিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয় নি। সংবাদ মধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়ে ঘুস নিয়ে ছেড়ে দেওয়া গাড়িটিকে বাচানোর চেষ্টা করে দপ্তরের কর্মীরা। প্রতিদিন এভাবে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ ভাবে সরকারি টেক্স ফাকি দিয়ে উৎকোচ বিলিয়ে দেদার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটা চক্র। এক্ষেত্রে এই সুযোগে বন কর্মী কেন পিছিয়ে থাকবেন। লেগে গেলেন অবৈধ ব্যবসায় ক্ষোদ দপ্তরের কর্মীও। এমন সঞ্জিত দেববর্মার মত সরকারি কর্মীদের সহযোগিতায় রয়েছে একাংশ ঘোসখোর দপ্তরের স্টাফ। অবশ্য এক্ষেত্রে দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন কিনা তা জানা যায়নি, নাকি তাদের জ্ঞাতসারেই চলছে এই খেলা সেটাই দেখার। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাধারণ ঘোসের বিনিময়ে ব্যবসায় কিন্তু দপ্তরের কর্মীকেও ছাড়েননি উনারা। এক্ষেত্রে অবশ্যই সিস্টেম মেনটেইন করেছেন সাধারণ অবৈধ ব্যবসায়ীদের মতই। এখন প্রশ্ন হল দপ্তর কি আদোও এই ধরনের অভিযোগের নিরিখে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করবেন? নাকি তদন্তের নাম করে পার পেয়ে যাবে সঞ্জিত দেববর্মার মত লোকেরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*