সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৮ আগস্ট || শরণার্থী ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার দাবীতে গন্ডাছড়া মহকুমা শাসকের নিকট প্রতিনিধি মূলক ডেপুটেশন প্রদান করলো মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির গন্ডাছড়া বিভাগীয় কমিটি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিকালের অতি বর্ষণের ফলে গোটা রাজ্যের সাথে গন্ডাছড়া মহকুমারও বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয় প্রায় কোটি কোটি টাকা। ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেয় প্রায় দুই হাজার জাতি জনজাতি অংশের লোকজন। গন্ডাছড়া-আমবাসা এবং গন্ডাছড়া-অমরপুর সড়কে বন্ধ হয়ে যান চলাচল। ঘর বন্দী হয়ে পড়ে দিন মুজুর মানুষ। অভাব অনটন দেখা দেয় প্রতি ঘরে ঘরে। গোটা গন্ডাছড়া মহকুমায় খোলা হয় ৩৭টি ত্রাণ শিবির। যদিও গত কয়েকদিন যাবৎ ইতি টানে বর্ষা। ঘরে ফিরতে শুরু করেছে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া লোকজন। তবে বর্ষার শুরু থেকেই ময়দানে ছিল প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা। গত কয়েকদিনে সি পি আই (এম) গন্ডাছড়া বিভাগীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা শিবিরগুলি পরিদর্শন করেন। শিবিরবাসীদের খোঁজ খবর নেন নেতৃত্ব ও কর্মীরা।
মঙ্গলবার সি পি আই (এম) গন্ডাছড়া বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে শরণার্থী ও ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তার দাবীতে এক প্রতিনিধিত্ব মূলক ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। মঙ্গলবার পাঁচ জনের এক প্রতিনিধি মহকুমা শাসক চন্দ্রজয় রিয়াং -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছয় দফা বিশিষ্ট একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন। মহকুমা শাসক এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে দাবী গুলি নিয়ে দীর্ঘক্ষন আলোচনা হয়।
দাবীগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলির মধ্যে ছিল কৃষকদের ক্ষতি হওয়া ধান, সব্জি সহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা, বন্যায় যে সমস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছে তাদেরকে সমপরিমান ক্ষতি পূরণ দেওয়া, জল প্লাবনে বর্তমানে যারা ত্রাণ শিবিরে রয়েছে তাদের খাওয়ার উপযুক্ত খাদ্য প্রদান করা এবং কচিকাচাদের টিফিনের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি ত্রাণ শিবিরে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া ইত্যাদি।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাইমাভ্যালির প্রাক্তন বিধায়ক ললিতমোহন ত্রিপুরা, যুবনেতা শৈলেশ দাস, কৃষকনেতা সুশান্ত হাজারী, চিন্তাসিং রিয়াংএবং চারু কুমার চাকমা।
ওইদিনই উক্ত প্রতিনিধিরা গন্ডাছড়া মহকুমার ফিশারি সুপার মদন ত্রিপুরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধিরা স্মারক পত্রে দাবী করেন গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গন্ডাছড়া মহকুমায় প্রায় দুইশটি মৎস্য চাষীদের নিজস্ব পুকুর লেইক জলের তলায় ডুবে গিয়েছে এতে বহু মৎস্য জীবি সর্বশ্বান্ত হতে হয়েছে। উক্ত মৎস্যজীবি এবং পুকুর, লেইক -মালিক পক্ষকে সঠিক তদন্ত ক্রমে আর্থিক সাহায্য এবং সরকারী স্কিমে পুকুর খনন করে দেওয়ার দাবী জানান।
