গোপাল সিং, খোয়াই, ৮ এপ্রিল || খোয়াই জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার চরম অব্যবস্থায় নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের একাংশ চিকিৎসকের সঙ্গে বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জনসাধারণ। এর ফলে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।
জনগণের অভিযোগ, হাসপাতালের নিজস্ব স্টোরে প্রায় ৩০০ ধরনের ওষুধ মজুত থাকলেও চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে সেইসব ওষুধ লিখছেন না। পরিবর্তে বাইরের দোকান থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে দুটি ল্যাবরেটরি চালু থাকলেও রোগীদের সেখানে পরীক্ষার জন্য না পাঠিয়ে বেসরকারি ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এক্স-রে বিভাগকে কেন্দ্র করে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালে যে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসানো হয়েছিল, তা গত কয়েক বছর ধরেই অকেজো। অথচ যন্ত্রটির পাঁচ বছরের গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও তা সারানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনা বা অন্যান্য কারণে আহত রোগীদের এক্স-রে করাতে প্রাইভেটে যেতে হচ্ছে।
অভিযোগ, বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো এই সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে প্রায় চারগুণ বেশি টাকা নিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্ট ছাড়াই শুধুমাত্র এক্স-রে প্লেট হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেই অসম্পূর্ণ প্লেট দেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা পুরো চক্রটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ভুক্তভোগী মানুষের প্রশ্ন, “যদি সব চিকিৎসাই বাইরে থেকে করাতে হয়, তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি এই সরকারি জেলা হাসপাতালের প্রয়োজন কী?”
সব মিলিয়ে দিশেহারা জনগণ অবিলম্বে খোয়াই জেলা হাসপাতালকে দোষনমুক্ত করে স্বচ্ছ পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
