সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৪ জুন || রাজধানীর ইন্দ্রনগরের যুবক শরীফুল হাসান হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য এখনও থামেনি। প্রায় ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও মানুষের মনে নানান প্রশ্ন। পুলিশি তদন্তে এই খুনের মূলচক্রী হিসাবে উঠে এসেছে শিক্ষক দীপক সাহা, তার স্ত্রী দেবিকা সাহা ও ডাক্তার ছেলে দিবাকর সাহার নাম। সঙ্গে ধরা পড়েছে দিবাকরের প্রেমিকা নবনীতা দাস ও আরও দুই সহযোগী।
অন্তর্তদন্তে জানা যায়, গন্ডাছড়া মহকুমার রামনগরের বাসিন্দা ছিলেন নকুল সাহা। তার চার ছেলের মধ্যে দীপক সাহা দ্বিতীয়। দীপক স্কুলে পড়াকালেই কুটিল মনের অধিকারী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। মাধ্যমিকের পর শিক্ষামন্ত্রীর দয়ায় শিক্ষকতার চাকরি হাতিয়ে নেন। বিয়ের পর স্ত্রী দেবিকার পরামর্শে জড়িয়ে পড়েন কেরোসিন, পেট্রল কালোবাজারি, গাঁজা পাচার, ব্রাউন সুগার, হিরোইনসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়।
পথের কাঁটা সরাতে দীপক সাহা এবং তার পরিবার ছক কষে ভাই রিপক সাহার কোটি টাকার সম্পদ দখল এবং যুবক শরীফুল হাসানকে হত্যা করার নীলনকশা তৈরি করে। জানা যায়, রিপক সাহার মেয়ে (ছদ্মনাম সুর্পণখা)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল শরীফুলের। সেই সম্পর্কের খবর জানার পরই ছেলেকে প্রেমের ফাঁদ পেতে হত্যার ছক কষে পরিবার।
৮ই জুন রাতে পরিকল্পনা মতো নেশা করিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় শরীফুলকে। এরপর গভীর রাতে দীপকের বাড়িতে গোপন সভা বসে। পরিকল্পনা হয় লাশ গন্ডাছড়ায় এনে গুম করার। শ্যালকের ইকো গাড়ি ব্যবহার করে হত্যার নকশা বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রতিবেশীদের প্রশ্ন, দীপক সাহার বাড়িতে পড়ে থাকা তিনটি বাইক ও একটি অ্যাল্টো গাড়ির মালিকানা কার? কেন পুলিশ এইসব জব্দ করছে না? কেনই বা সমাজের এই নরপশুদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে না?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে। আটক ৬ জনকে জেরা করে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোটা রাজ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে শোক আর ক্ষোভের ছায়া।
