সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৯ জুলাই || গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার নাম করে চলছে চরম অব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদাসীনতার করুণ চিত্র। দিনের পর দিন হাসপাতালের বেহাল অবস্থা আরও শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক তো নেই-ই, হাতে গোনা কয়েকজন নার্স মিলেই চালাচ্ছেন হাসপাতালের গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে। হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ বলতে প্রায় কিছুই নেই। সুই, সিরিঞ্জ, স্যালাইনসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের কিনে আনতে হচ্ছে বাইরের ওষুধের দোকান থেকে।
হাসপাতালের দালান বাড়িটির অবস্থাও অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি উঠে এলে স্বাস্থ্য দপ্তর নড়েচড়ে বসে এবং সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কিন্তু সেই কাজ চলছে একেবারে শম্বুক গতিতে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মহকুমা জুড়ে রয়েছে দুটি ব্লক — ডুম্বুরনগর ও রইস্যাবাড়ি, যেখানে মোট ২৭টি এডিসি ভিলেজ অবস্থিত। প্রতিটি গ্রামে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র থাকলেও গত তিন-চার বছর ধরে বেশিরভাগ কেন্দ্রই কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এসব বন্ধ হওয়ার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা সরকারি ব্যাখ্যাও মেলেনি। কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত হাতিরমাথা এলাকার হাসপাতালটি এখন রীতিমতো কুকুরদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, রইস্যাবাড়ির প্রাথমিক হাসপাতালটিও নানা সমস্যার মাঝে কোনোমতে সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই গোটা অঞ্চলের প্রায় ৮০ হাজার জনজাতি মানুষের একমাত্র ভরসা গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতাল। অথচ, সেখানে চিকিৎসকের সংখ্যাই যথেষ্ট নয়। নথিতে চিকিৎসকের সংখ্যা ১২ হলেও বাস্তবে উপস্থিত মাত্র ৩-৪ জন। এতেই চলছে দিনরাতের জরুরি পরিষেবা। নার্সদেরও অবস্থা করুণ — প্রত্যেককে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করতে হচ্ছে। শিশু, গায়নিক এবং মেডিসিন বিভাগে কমপক্ষে ৫ জন করে চিকিৎসক ও অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ জন নার্সের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সরকারি ওষুধের তীব্র ঘাটতিতে রোগীদের রোজকার খরচ বেড়ে গিয়েছে। গরিব রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন, কারণ ন্যূনতম চিকিৎসা সামগ্রী পর্যন্ত বাজার থেকে কিনে আনতে হচ্ছে তাদের।
সব মিলিয়ে গোটা হাসপাতাল ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের চরম উদাসীনতা আজ মানুষের প্রাণনাশের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বারবার ভোটের আগে নেতা-নেত্রীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়িয়ে গেলেও, বাস্তবে ভোট ফুরোতেই সেই প্রতিশ্রুতি উধাও হয়ে যায় — এটাই যেন গন্ডাছড়া মহকুমার চিরন্তন পরিণতি।
