গন্ডাছড়া মহকুমায় বিপর্যয় মোকাবিলার মহড়া, ডুম্বুর জলাশয়ের বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যপট তুলে ধরা হলো বাস্তবসম্মতভাবে

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৯ জুলাই || গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমায় এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে—এমনই একটি দৃশ্যপট তুলে ধরে বুধবার মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক বৃহৎ বিপর্যয় মোকাবিলার মহড়া। বিশেষত ডুম্বুর জলাশয়ের জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে জলাশয়ের পাড়ে অবস্থিত বসতিপূর্ণ অঞ্চল নায়রাহা চৌধুরী পাড়ায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে বহু বাড়িঘর, আসবাবপত্র সহ অন্যান্য সামগ্রী।
সকালে খবর পৌঁছতেই মহকুমা শাসক চন্দ্রজয় রিয়াং তড়িঘড়ি সব লাইন ডিপার্টমেন্টকে সতর্ক করে দেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণকার্যের নির্দেশ জারি করেন। দুটি ব্লক—ডুম্বুরনগর আর ডি ব্লক ও রইস্যাবাড়ি আর ডি ব্লককে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়। ডুম্বুরনগর ব্লকের অধীনে কবিগুরু স্মৃতি বিদ্যা ভবনে খোলা হয় জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং জমাতিয়া পাড়া বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয় অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র।
মহড়া চলাকালে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে মহকুমা অফিসের সাইরেন বাজতেই উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা রওনা দেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে। পথে মনোরঞ্জনদাস পাড়ার এসপিও ক্যাম্প সংলগ্ন টিলায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং এক যুবক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায় বলে জানায় স্থানীয়রা। উদ্ধারকারী দল প্রথমে ওই ধস সরিয়ে আহত যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়, এরপর এগিয়ে যায় নায়রাহা চৌধুরী পাড়ার দিকে।
সেখানে বন্যা কবলিত পরিবারের বহু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চারজনকে গুরতর আহত অবস্থায় অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়, যাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঠানো হয় গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে।
পুরো মহড়ার শেষে মহকুমা শাসক চন্দ্রজয় রিয়াং জানান, “এটি ছিল বাস্তব ঘটনার আদলে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ বিপর্যয় প্রস্তুতি মহড়া। ভবিষ্যতের জন্য মহকুমার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি এবং সমন্বয় পরখ করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, “এই মহড়ার মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি দপ্তর যে সচেতন এবং প্রস্তুত, তা আবারও প্রমাণিত হলো। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে জানানো হচ্ছে—এটি ছিল একটি মহড়া মাত্র, কাউকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।”
মহড়াটি উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায় এবং তা বাস্তব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে মহকুমা প্রশাসনের প্রস্তুতির এক বাস্তবচিত্র তুলে ধরে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*