গন্ডাছড়ায় মাদক কারবার ও চুরির দাপটে জনজীবনে আতঙ্কের ছায়া: প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২০ জুলাই || ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমা সদর ক্রমেই মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ড্রাগস এবং অন্যান্য নেশাদ্রব্য। গন্ডাছড়া বাজারের একাধিক দোকানে এইসব মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে অনায়াসেই। মরণ নেশার ফাঁদে পড়ে যুব সমাজ বিপথে পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত এক মাসে গন্ডাছড়া মহকুমার অন্তর্গত ৬০ কার্ড, ৩০ কার্ড, দুর্গাপুর, নারায়ণপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৪৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। চোরের দাপটে বহু পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠছে।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনায় রবিবার দুপুরে গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালের নিকটবর্তী চৌমুহনীতে অবস্থিত গুরুচরণ মেডিকেল হলে ঘটে চুরির ঘটনা। দোকানের মালিক অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল চোর ক্যাশ কাউন্টার থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। চুরির মুহূর্তের দৃশ্য দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, যা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
চোখের সামনে ঘটলেও এত দ্রুত সব কিছু ঘটে যাওয়ায় আশপাশের লোকজন বা অন্য দোকানদাররা প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ পাননি। স্থানীয়রা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে চোরদের স্পষ্ট গতিবিধি ধরা পড়েছে এবং তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জনবহুল এবং সচল এলাকায় দিনের বেলায় এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী সুধীর পাল জানান, “এই এলাকায় সারাদিন মানুষের ভিড় থাকে, কিন্তু নিরাপত্তার দিকটা এখন একেবারেই অবহেলিত। আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অবিলম্বে পুলিশের টহল বাড়ানো এবং সিসিটিভির পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি।
পরে গুরুচরণ মেডিকেল হলের মালিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। থানার এক আধিকারিক জানান, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং ফুটেজে অভিযুক্তদের গতিবিধি পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” একইসঙ্গে স্থানীয় অপরাধী চক্রের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গন্ডাছড়া এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক নিরাপত্তা সচেতনতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানে সিসিটিভি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত দাস বলেন, “এখন সময় এসেছে আমাদের একসাথে দাঁড়িয়ে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার।”
গন্ডাছড়ার গুরুচরণ মেডিকেল হলে ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে উঠে এসেছে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। শুধুমাত্র সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের চিহ্নিত করলেই হবে না, বরং এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্থানীয় জনগণের যৌথ প্রচেষ্টা জরুরি। প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফেরাতে এবং গন্ডাছড়া মহকুমার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সময়োচিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*