গোপাল সিং, খোয়াই, ২৫ জুলাই || খোয়াই শহরে চোরের উপদ্রব ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। গতকাল রাতে খোয়াই অরবিন্দ পার্ক সংলগ্ন একটি দোকানের সিসি ক্যামেরায় সশস্ত্র চোরের দলের ছবি ধরা পড়ায় এই উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুলিশের মাদক-বিরোধী অভিযান প্রশংসিত হলেও, লাগাতার চুরির ঘটনা রুখতে তাদের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক তিনটে নাগাদ একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি দোকানের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
স্থানীয়দের দাবি, এরা সম্ভবত সীমান্ত পেরিয়ে আসা বাংলাদেশি চোর। এই ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে নৈশপ্রহরা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নৈশপ্রহরীরা সক্রিয় থাকলে কীভাবে সশস্ত্র চোরের দল শহরে অবাধে বিচরণ করতে পারে? প্রায়শই বাংলাদেশী নাগরিক ধরা পড়ছে। সীমান্ত প্রহরায় ঢিলেমি না থাকলে সেটাও সম্ভব হতো না। এদিকে জনসাধারণের আশঙ্কা, সীমান্ত পেরিয়ে আসা চোরদের সঙ্গে স্থানীয় কোনো চক্রের যোগাযোগ থাকতে পারে, যারা এই চুরির ঘটনাগুলির মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’। তাদের মতে, পুলিশের কাছে এই বিষয়ে তথ্য থাকলেও মূল চক্রীদের শনাক্ত করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি খোয়াই থানার নতুন ওসি হিসেবে কৃষ্ণধন সরকার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি প্রাক্তন ওসি সুবীর মালাকারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। খোয়াইবাসী এখন তাকিয়ে আছেন নতুন ওসির দিকে—তিনি কি শহরের লাগামছাড়া চুরির ঘটনায় রাশ টানতে পারবেন? জেলা পুলিশ আধিকারিক যেভাবে মাদক বিরোধী অভিযানে সাফল্য পাচ্ছেন, সেভাবেই চুরি রুখতে তিনি কী কঠোর পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাও দেখার।
