জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে পালিত হলো ‘পি. এম. কিষান দিবস’, বগাফায় চরম অবহেলা – উঠছে ক্ষোভের সুর

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০২ আগস্ট || জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে শনিবার জোলাইবাড়ী কমিউনিটি হলে পালিত হলো ‘পি. এম. কিষান দিবস’। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কৃষি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে এই দিন কৃষকদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি অংশগ্রহণে দেশব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে জোলাইবাড়ী ব্লকের কৃষকদের মধ্যে ‘পি. এম. কিষান সম্মান নিধি’ প্রকল্পের টাকা হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস, শান্তিরবাজার পুরপরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, জোলাইবাড়ী পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজসেবী সুজিত দত্ত সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সকলে একত্রে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ শ্রবণ করেন।
এদিন কৃষকরা জানান, বর্তমানে ধানচাষের মৌসুম চলছে। এই সময় আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে সুবিধা হবে। এজন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী এবং জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তবে জোলাইবাড়ীতে যেখানে কৃষকদের উন্নয়নে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা চোখে পড়ে, ঠিক তার উল্টো ছবি ধরা পড়েছে বগাফা কৃষি দপ্তরে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক রাজীব সেন মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ করছেন না। বরং দিনভর অফিসকক্ষে বসেই সময় কাটান তিনি। কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে তিনি আগ্রহী নন।
রাজীব সেন জানান, তাঁর কাছে কোনো প্রকল্প ফান্ড নেই। কিন্তু বগাফা কৃষি দপ্তরের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার পেছনে দক্ষিণ জেলার কৃষি আধিকারিক সুমিত কুমার সাহার ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, সুমিত সাহা ইচ্ছাকৃতভাবে বগাফা কৃষি দপ্তরকে অবহেলা করছেন এবং প্রকল্প ফান্ড আটকে রাখছেন।
এর ফলে বগাফা এলাকায় কৃষকদের নিয়ে কোনো ধরনের সচেতনতামূলক বা সহায়তামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি অনেকের অভিযোগ, সুমিত কুমার সাহা প্রকল্পের অর্থ কৃষকদের কাছে পৌঁছে না দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন।
এই প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের দাবি, রাজীব সেনকে অবিলম্বে সরিয়ে তাঁর পরিবর্তে আবারও সুজিত কুমার দাসকে বগাফা কৃষি দপ্তরের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হোক। কারণ সুজিত দাস থাকাকালীন সময়ে কৃষকদের উন্নয়নে একাধিক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছিল। একইসঙ্গে, সুমিত কুমার সাহার কার্যপদ্ধতিরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি তুলেছেন সকলে।
এখন দেখার বিষয়, কৃষি দপ্তর এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কৃষকদের স্বার্থে দপ্তরের উচ্চস্তরের হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*