গন্ডাছড়ার মহাশ্মশান চরম অবহেলায়: বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও হয়নি পুনর্নির্মাণ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০২ জুলাই || গন্ডাছড়া মহকুমার একমাত্র মহাশ্মশানটি দীর্ঘ পঁচিশ বছর যাবৎ চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে চলেছে। চার দশক আগে ডুম্বুরনগর ব্লকের ষাটকার্ড এলাকায় নির্মিত এই মহাশ্মশানে এখনো পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি পাকা চুল্লি রয়েছে, যা বর্তমানে কার্যত অচল। অথচ এই শ্মশানই মহকুমার প্রায় আশি হাজার মানুষের জন্য একমাত্র দাহনস্থল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনের দোরগোড়ায় ধরনা দিয়েও মিলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। বরং জানা যাচ্ছে, বিগত কয়েক বছরে অন্তত দুইবার মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত শুরু হয়নি কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ। অভিযোগ উঠেছে, সেই বরাদ্দের টাকা গিলে নিয়েছেন কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অথচ শ্মশানের অবস্থার একচুলও উন্নতি হয়নি।
পরিচালক প্রদীপ পূজারীর মাধ্যমে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ডুম্বুরনগর ব্লকের পক্ষ থেকে মহাশ্মশানটির আধুনিকীকরণ ও চুল্লির সংখ্যা বাড়িয়ে তিনটি করার লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা গন্তব্যে পৌঁছালেও বাস্তবে কোনও কাজ চোখে পড়েনি।
বর্তমানে যে একমাত্র চুল্লিটি রয়েছে, তা চরম জীর্ণ অবস্থায়। লোহার মোটা পাতগুলি আগুনের তাপে বেঁকে গেছে, মৃতদেহ তুলবার কোনও যন্ত্র বা সুবিধা নেই। অনেক সময় একাধিক মৃতদেহ নিয়ে দাহনের জন্য আসতে হয়, ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় আত্মীয়স্বজনদের।
এছাড়াও, শ্মশান চত্বরে নেই কোনও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ফলে রাতের অন্ধকারে মৃতদেহ দাহন কার্য করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় শ্মশানযাত্রীদের। নেই কোনও নিরাপদ জলাধার বা চৌবাচ্চা, এমনকি কাছের ছড়া থেকে জল তুলতে গেলেও নেই সিঁড়ির মতো ন্যূনতম পরিকাঠামো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, এই শ্মশান যেন হয়ে উঠেছে অবহেলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জীবন্ত প্রতীক। প্রশ্ন উঠেছে, একটি মহকুমার একমাত্র শ্মশানঘাটে ন্যূনতম পরিষেবার ব্যবস্থা না থাকার অর্থ কী? জনজাতি অংশের মানুষ কি তবে এতটাই অভিভাবকহীন?
অবিলম্বে মহাশ্মশানটির পূর্ণ সংস্কার, আধুনিক মানের অন্তত তিনটি চুল্লি, জলের স্থায়ী ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করার দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের হুঁশিয়ারি, এবার যদি প্রশাসন নড়েচড়ে না বসে, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*