বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৫ আগস্ট || কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের উদ্দ্যেশ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার জোলাইবাড়ী মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় শুরু হলো সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের কর্মসূচি। শান্তির বাজার খাদ্য দপ্তর ও জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে ধান ক্রয় করা হচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস, শান্তির বাজার পুর পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, জোলাইবাড়ী পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক মলয় চৌধুরী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী সুজিত দত্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সত্যব্রত সাহা জানান, “বিগত দিনে কৃষকদের জন্য এমন কোনো সরকারি উদ্যোগ ছিল না। কৃষকদের নিজের উৎপাদিত ধান সরকারিভাবে বিক্রির সুযোগ না থাকায় তারা কৃষিকাজে অনাগ্রহী হয়ে পড়তেন। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ধান উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সমস্ত স্তরে সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে কৃষিজ বীজ, যন্ত্রাংশ, কৃষক সন্মান নিধি সহ বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছে। যা আগে দেখা যায়নি। আগে কৃষকদের ধান চাঁদা হিসেবে তুলে দিতে হতো, এখন আর তা করতে হচ্ছে না।”
জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস জানান, আজ থেকেই শুরু হয়েছে ধান ক্রয়ের কাজ, যা চলবে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত। এ বছর জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরকে মোট ৭৫০ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তবে দপ্তর আশাবাদী যে তারা প্রায় ৮৫০ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করতে পারবে।
তিনি বলেন, “এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে কৃষকদের আন্তরিক পরিশ্রম ও দপ্তরের সহায়তার ফলে। আমাদের দপ্তর কৃষকদের পাশে থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করে আসছে, যার ফলেই আজ কৃষকদের মধ্যে সরকারিভাবে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে এত উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।”
এদিনের ধান ক্রয় কেন্দ্রে কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সকাল থেকেই তাদের উৎপাদিত ধান নিয়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে হাজির হন। উপস্থিত কৃষকরা রাজ্য সরকার ও কৃষি দপ্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, সরকারের এই উদ্যোগ তাঁদের কৃষিকাজে আরও উৎসাহ জুগিয়েছে।
এই কর্মসূচি নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে আরও অনেক কৃষককে উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
