প্রতি শিক্ষাবর্ষে বাড়তি ৩০ দিন চুরি করার ফাঁদ শিক্ষা দপ্তরের! খোয়াইতে শিক্ষা দপ্তরের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্তে নাজেহাল বিদ্যাজ্যোতির শিক্ষার্থীরা!



গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ ডিসেম্বর || একটি শিক্ষাবর্ষে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৪০ দিন ‘ওয়ার্কিং ডে’। তার থেকে কায়দা করে বাড়তি ৩০-৩১ দিন চুরি করে নেওয়ার ফাঁদ তৈরী করেছে শিক্ষা দপ্তর। এদিকে খোয়াইতে বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পাধীন বিভিন্ন স্কুলের বিভিন্ন পরীক্ষা গ্রহণের সময়সীমা নিয়ে অভিভাবকমহলে ব্যাপক গুঞ্জন। ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পের অধীন খোয়াই মহকুমার একেক স্কুলে এখন একেক রীতি। তাজ্জব বনে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকমহল। বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের এক থেকে দেড় মাস আগেই ‘পিরিওডিক টেষ্ট-২’ পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে এই পরীক্ষা গ্রহণের বিধিনিয়ম সিবিএসই নির্ধারণ করে দিলেও তা মানতে রাজি নয় খুদ শিক্ষা দপ্তর।খোয়াইয়ের বেশ কয়েকটি বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে নভেম্বর মাসেই শুরু হয়ে গেছে পিরিওডিক টেষ্ট-২’ পরীক্ষা গ্রহণ পর্ব। কিন্তু আবার কয়েকটি স্কুল শুরু করেছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। কোনো কোনো স্কুল দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু করবে। আবার খোয়াই শহরের বনেদী একটি স্কুলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার দিনক্ষণই জানানো হয়নি। এদিকে ‘একই যাত্রায় পৃথক ফল’ ভোগ করতে হচ্ছে খোয়াইয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। যে স্কুলে বর্তমান পরীক্ষা আগে হয়েছে, তারা বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পাবে বাড়তি সময়, আর যারা জানেই না কবে হবে পরবর্তী পরীক্ষা, তাদের হাতে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য হাতে সময় থাকবে কম। তাছাড়া উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে ফেব্রুয়ারী মাসের ৯ তারিখ থেকে গ্রহনের নোটিশ আগেই জারি করে রেখেছে শিক্ষা দপ্তর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতি বছরই তো এই সময়ে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকবে। তাহলে প্রতি শিক্ষা বছরে রাজ্যের শিক্ষার্থীদের থেকে কি একটি করে মাস কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে? প্রশ্ন অভিভাবকদের। এমনিতেই ৩৬৫ দিনের মধ্যে সর্বসাকুল্যে ২৪০ দিনের মতো ‘ওয়ার্কিং ডে’। তার উপর এখন থেকে আরও ৩০-৩১ দিন কমে যাচ্ছে। স্কুলে স্কুলে শিক্ষক সঙ্কট। এদিকে স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রিন্সিপলদের মুখে একটাই অভিযোগ, অনলাইন ও অফলাইন প্রতিদিন প্রচুর টাস্ক সম্পূর্ণ করে তারপর স্কুলে ছাত্রদের সময় দিয়ে উঠতে পারছেনা শিক্ষকমশাইরা। যদিও সূত্রের খবর, টেট উত্তীর্ণ শিক্ষকদের বাগে আনতে পারছেনা শিক্ষা দপ্তর। নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতা, কোনোটাই মানছেনা নতুন প্রজন্মের এই শিক্ষকরা। তাছাড়া, সরকারী স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ শিক্ষা দপ্তর ও প্রশাসন। তাহলে শিক্ষার মানোন্নয়ন কিভাবে হবে? প্রশ্ন অভিভাবকমহলের। শিক্ষা দপ্তরের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্তে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা।অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
জনগণের প্রশ্ন, একি বিদ্যাজ্যোতি নাকি ভীমরতি! শিক্ষা দপ্তরের কর্তারা বিশেষ করে খোয়াই জেলা শিক্ষা দপ্তর এবং বিদ্যালয় পরিদর্শক, নিষ্ক্রিয় হয়ে দিন কাটাচ্ছে। উদ্বোধন, ফিতা কাটা আর মঞ্চে ভাষন দিতে ব্যস্ত শিক্ষা দপ্তরের কর্তাদের নাকের ডগায় স্কুলগুলোতেও হয়না এখন কোনো পরিদর্শন। অধিকাংশ স্কুলগুলোতে মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা। শিক্ষা দপ্তরের কর্তারা যেন হাসিমুখে বলছেন — ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমরা আমাদের মতোই চলতে চাই’!

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*