গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ ডিসেম্বর || গভীর রাতে স্ট্রিং অপারেশন। গোমতী জেলার অমরপুরের অম্পিতে একের পর এক গাড়ি বোঝাই গাছের লগ ছুটল গন্তব্যস্থলে। কিন্তু বন ধ্বংস করে গাছের লগ কোথায় পাচার হচ্ছে? প্রশ্ন জনমনে।
রাজ্যের বনাঞ্চল আজ কার্যত বনদস্যুদের কবলে। জনগণের অভিযোগ, গোটা ত্রিপুরা রাজ্যজুড়েই নির্বিচারে বন উজাড় করে চলছে অবাধ গাঁজার চাষ। পাহাড়ি এলাকা বেছে নিয়ে কৌশলে, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এই অবৈধ চাষাবাদ চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। অথচ বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার কোনও সক্রিয় ভূমিকা নজরে পড়ছে না বলে অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ।
জনগণের দাবি, বনদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। মাসের পর মাস বেতন পেলেও বন রক্ষায় তাদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। এর ফলেই একের পর এক বনাঞ্চল গায়েব হয়ে যাচ্ছে। শুধু গাঁজাচাষই নয়, রাতের অন্ধকারে ট্রাক-ট্রাক করে মূল্যবান গাছের লগ বনজঙ্গল থেকে শহরের দিকে ঢুকছে। কিন্তু এই কাঠ কোথায় যাচ্ছে? কারাই বা এর পেছনে রয়েছে? প্রশ্ন উঠছে জনমনে।
অম্পি এলাকার জঙ্গল এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই বনজ সম্পদ পাচারের অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এই লুটপাট প্রশাসনের কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব নয়। গত রাতের একটি স্টিং অপারেশনের ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে কীভাবে দামি, পুরনো গাছ পাচার করা হচ্ছে। জনগণের মতে, এটি শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়—এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র।
স্থানীয়দের আরও বক্তব্য, অম্পি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত একই চিত্র—বন নিধন, গাঁজাচাষ এবং প্রশাসনিক নীরবতা। বন্যদস্যুর কবলে পড়েছে রাজ্যের বনাঞ্চল।
আজ যখন সর্বত্র “গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান” স্লোগান শোনা যায়, তখন জনগণের প্রশ্ন—এই বার্তা কি শুধু দেয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার আর সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি বাস্তবে বন রক্ষায় কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে? ক্ষোভ ও উদ্বেগে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যবাসীর মনে।
https://www.facebook.com/share/v/1Fen8foHys/
