গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ জানুয়ারি || প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যখন বাস্তবে রূপ নেয়, তখন তার প্রভাবও চোখে পড়ার মতো হয়। ঠিক তেমনই এক দৃশ্য দেখা গেল তেলিয়ামুড়ায়। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমায় “No Helmet, No Petrol” কর্মসূচি চালু করে কড়া বার্তা দিল জেলা প্রশাসন।
জনগণের মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৮৫ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ডিজিপি অনুরাগ ধনকরের মতে ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ জন মানুষের মৃত্যু সত্যিই উদ্বেগজনক। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দূর্ঘটনা ত্রিপুরা রাজ্যে হ্রাস পেয়েছে ৮.৮ শতাংশ হারে। দেশের ভয়াবহ পরিসংখ্যানের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের এমন কঠোর মনোভাবকে অনেকেই সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে অন্তত কিছুটা হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাবে।
সড়ক নিরাপত্তা মাসের অঙ্গ হিসেবে তেলিয়ামুড়ার মহকুমাশাসক (এসডিএম)-এর নেতৃত্বে এই সচেতনতা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দুই চাকার গাড়িচালকদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং নিরাপদ চালনার অভ্যাস গড়ে তোলা। অভিযানের সময় যেসব চালক হেলমেট ছাড়া পেট্রোল পাম্পে আসেন, তাঁদের কাউন্সেলিং করা হয় এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়—হেলমেট না থাকলে পেট্রোল দেওয়া হবে না।
প্রশাসনের বক্তব্য, সড়ক নিরাপত্তা শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। নিজের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করলে তার মূল্য দিতে হয় জীবন দিয়ে—এই বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায় প্রশাসন।
তবে সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, এই ধরনের উদ্যোগ কি শুধু তেলিয়ামুড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজ্যের প্রতিটি জনপদ ও প্রতিটি মহকুমায় একইভাবে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে? কারণ নিয়মের সমান প্রয়োগ না হলে তার সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
সব মিলিয়ে, “No Helmet, No Petrol” কর্মসূচির মাধ্যমে তেলিয়ামুড়া প্রশাসন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তা রাজ্যজুড়ে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ কতটা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ মৃত্যুমিছিল থামাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়।
