সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২২ জানুয়ারি || গন্ডাছড়া মহকুমার প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত তৈচাকমা এডিসি ভিলেজের সেনপাড়ায় ভাঙা কুঁড়েঘরে মানবেতর অবস্থায় বসবাসকারী ৮০ বছরের বৃদ্ধা সুজি মুখী চাকমা আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি। স্বাধীন ভারতের নাগরিক হয়েও বছরের পর বছর তিনি কোনও সরকারি সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। না পেয়েছেন ন্যূনতম বৃদ্ধ ভাতা, না পেয়েছেন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কোনও সহায়তা।
প্রশ্ন উঠছে—এতদিন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেলেন কীভাবে একজন অসহায় বৃদ্ধা?
আমাদের সংবাদমাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার গন্ডাছড়ার সিডিপিও-কে সঙ্গে নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছান স্বশাসিত জেলা পরিষদের ইএম রাজেশ ত্রিপুরা। সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয় বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভাব এবং বসবাসের অমানবিক পরিস্থিতি।
পরিদর্শনকালে বৃদ্ধাকে কম্বল, চাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে দ্রুত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বৃদ্ধ ভাতা চালু করা এবং একটি নতুন ঘর নির্মাণে ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
নিঃসন্দেহে এই উদ্যোগ মানবিক। তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংবাদ প্রকাশ না হলে কি এই বৃদ্ধার দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি পড়ত? একজন ৮০ বছরের বৃদ্ধা কীভাবে বছরের পর বছর সরকারি ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেলেন? সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি কি আদৌ মাঠপর্যায়ে কার্যকর, না কি শুধুই কাগজে–কলমে সীমাবদ্ধ?
এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়। প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এখনও অসংখ্য সুজি মুখী চাকমা রয়েছেন, যাঁরা নীরবে অভাব ও অবহেলার বোঝা বয়ে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
আজকের প্রশাসনিক তৎপরতা আশার আলো দেখালেও, যদি তা শুধুই ‘সংবাদ-পরবর্তী মানবিকতা’য় সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি অনিবার্য। প্রশাসনের কাছে তাই প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা। কারণ মানবিকতা কোনও দয়া নয়—এটা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
