গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ ফেব্রুয়ারী || আমরাই খোয়াই শহরের মান্ধাতা আমলের রাস্তা নিয়ে বারবার সংবাদ পরিবেশিত করেছি। খোয়াই পুর পরিষদ আমাদের সংবাদে শিলমোহর দিয়ে পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে খোয়াই শহরকে ধাপে ধাপে আধুনিক রূপে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। একান্ত সাক্ষাৎকারে পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথ শর্মা শহরের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
চেয়ারপার্সন জানান, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্তিকরণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় খোয়াই সিএনজি স্টেশন থেকে জেলা হাসপাতাল, নৃপেণ চক্রবর্তী অ্যাভিনিউ হয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি লেন পর্যন্ত রাস্তার সম্প্রসারণ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গলিপথ পেভার ব্লক দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।
নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় প্রধান ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ চলছে। দুর্গানগর কুড়িপাড়া থেকে লালছড়া এবং বিবেকানন্দ মূর্তি সংলগ্ন এলাকা থেকে নামাপাড়া হয়ে নিবেদিতা পার্ক পর্যন্ত এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মেনে মরানদী এলাকায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া খোয়াই মহাশ্মশানঘাটে বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন চেয়ারপার্সন। শহরবাসীর জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পুর পরিষদ ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুভাষ পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গণে একটি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নিচতলায় পার্কিং সুবিধা থাকবে। শহরের ঐতিহ্যবাহী হরিমন্দির সংলগ্ন পুকুর এবং খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণির বালিকা বিদ্যালয়ের পাশের পুকুর সৌন্দর্যায়নের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিশু ও কিশোরদের জন্য ইতিমধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে এবং জেলা হাসপাতালের পাশে নিবেদিতা পার্ক আধুনিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পার্কগুলোকে শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে বলে জানান পুর চেয়ারম্যান।
পরিশেষে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে খোয়াই শহরের প্রতিটি রাস্তার প্রশস্তিকরণ করা হবে এবং নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত করা হবে। শহরবাসীর সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণ থাকলে খোয়াইকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত শহরে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
