আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৪ মার্চ || অর্গানিক পদ্ধতিতে এআরসি আলু চাষের ক্রপ কাটিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো কিল্লা কৃষি মহকুমায়। আলুর ফলন দেখে খুশি কৃষক থেকে শুরু করে বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকরা।
গত কয়েক বছর ধরে রাজধানী আগরতলার নাগীছড়া এলাকার রাজ্যিক উদ্যান এবং বাগিচা ফসল গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে রাজ্যে এআরসি পদ্ধতিতে আলু চাষ হচ্ছে। এবছর ত্রিপুরা স্টেট অর্গানিক ফ্রের্মিং ডেভেলপমেন্ট এজেন্সীর সহায়তায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে প্রথমবারের মতো অর্গানিক পদ্ধতিতে এআরসি আলু চাষ করা হয়। অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি গোমতী জেলা উদ্যান এবং মৃত্তিকা সংরক্ষণ দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টরের অফিসের উদ্যোগে কিল্লা কৃষি মহকুমায় অর্গানিক পদ্ধতিতে এ আর সি আলু চাষ করা হয়। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করা এআরসি আলুর ক্রপ কাটিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় কিল্লা কৃষি মহকুমায়। এদিন পূর্ব কুপিলং এলাকার কৃষকদের জমিতে ক্রপ কাটিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ দিনের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা উদ্যান এবং মৃত্তিকা সংরক্ষণ দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবাশীষ দাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দেবাশীষ সরকার, রাজ্যিক উদ্যান এবং বাগিচা ফসল গবেষণা কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর অবিনাশ দাস, ডেপুটি ডিরেক্টর এবং এআরসি প্রকল্পের নোডাল অফিসার অরিন মজুমদার, কিল্লা কৃষি মহকুমার কৃষি তত্ত্বাবধায়ক শুভেন্দু মজুমদার, আন্তর্জাতিক আলু গবেষণা কেন্দ্র সিপ্ এর ত্রিপুরা রাজ্যের আধিকারিক রঙ্গনাথন সহ কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অন্যান্য কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকার জাতি জনজাতি অংশের কৃষকরা।
সকলের উপস্থিতিতে আলু তোলা হয়। এদিন উদয় জাতের আলুর ক্রপকাটিং করা হয়। হেক্টর প্রতি গড়ে প্রায় ৩৮ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। ফলন দেখে কৃষকরা খুশি ব্যক্ত করেন, তারা জানান দীর্ঘ বছর ধরে আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই আলু চাষ করে প্রথমবার এত বেশী পরিমানে আলুর ফলন হয়েছে।
পাশাপাশি এই এলাকার চাষিরা মোহন জাতের আলু চাষ করেছেন এবং ইতিমধ্যে তারা তা জমি থেকে সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। এদিন প্রাক্তন মন্ত্রী এবং স্থানীয় বিধায়ক রামপদ জমাতিয়াও পূর্ব কুপিলং এলাকার আলু চাষীদের বাড়িতে যান। তিনি বিষ্ণুমোহন জমাতিয়া ও বীরজা সাধন জমাতিয়ার বাড়িতে গিয়ে আলুর ফলন দেখেন। এই দুইজন কৃষক মোহন জাতের আলু চাষ করেছেন। আলুর ফলন দেখে বিধায়ক রামপদ জমাতিয়াও অভিভূত হয়ে যান। এই বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, আলুর আকার এবং ফলন তিনি খুশি। কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তর থেকে এ বছর স্থানীয় এলাকার পাঁচজন চাষীকে এআরসি পদ্ধতিতে আলু চাষের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। তারা সকলেই আলু চাষ করে খুশি। আগামী বছর যাতে ন্যূনতম এই এলাকার ৫০ জন চাষীকে এ আর সি পদ্ধতিতে আলু চাষের সঙ্গে যুদ্ধ করা হয় এই আহবান রাখেন তিনি।
