বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৩ মার্চ || দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার জোলাইবাড়ী বিধানসভা এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং কৃষি আধিকারিকদের প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলের কৃষকরা ধান চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি চাষেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছেন। রাজ্য সরকারের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কৃষি দপ্তর নিয়মিতভাবে কৃষকদের উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব চড়কবাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষক মৃণাল দেবনাথ একইসাথে সাত প্রজাতির আলু চাষ করে এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় তিনি হিমালিনী, চিপসোনা–৩, নীলকণ্ঠ, পোখরাজ, করণ, সঙ্গম এবং উদয়—এই সাত ধরনের আলু চাষ করেছেন।
এই সাত প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী হলো নীলকণ্ঠ আলু। জানা যায়, কর্মসূত্রে বহিরাজ্যে থাকার সময় সেখান থেকে চারটি নীলকণ্ঠ আলু এনে তিনি ১৬টি চারা গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে সেই গাছগুলো থেকে প্রায় ১৪ কেজি আলু সংগ্রহ করেছেন। ভবিষ্যতে এই আলুগুলো সংরক্ষণ করে আরও বড় পরিসরে চাষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষক মৃণাল দেবনাথ।
তিনি জানান, জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস–এর পরামর্শ এবং কৃষি দপ্তরের নির্ধারিত গাইডলাইন মেনে এআরসি চারা ব্যবহার করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। আলু চাষে কৃষি দপ্তর সার্বিক সহযোগিতা করেছে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে কৃষক মৃণাল দেবনাথের আলুর জমি পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন শেষে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কৃষকদের উন্নয়নে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি এবং উৎপাদিত আলু সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জোলাইবাড়ী পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, বি এস সির চেয়ারম্যান অশোক মগ, জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করতেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক মৃণাল দেবনাথ নিজের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের কথা তুলে ধরে জানান, সঠিক পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারলে কৃষিকাজে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
