গোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ এপ্রিল || খোয়াই মহকুমার অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিঙ্গিছড়া স্থিত শরৎচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর মতে, বিদ্যালয়ে একটি পুরনো আমলের সুরক্ষিত লকার থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কেন সাধারণ আলমারিতে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা রেখে গেলেন, তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে খোয়াইয়ের বিভিন্ন স্কুলে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে, সেখানে ‘সমাজ গড়ার কারিগর’ হিসেবে পরিচিত শিক্ষকরা এমন অসাবধানতা দেখালেন কীভাবে? অনেকেরই ধারণা, বিদ্যালয়ে প্রচুর নগদ টাকা গচ্ছিত রয়েছে—এমন সুনির্দিষ্ট খবর চোরদের কাছে আগে থেকেই ছিল।
এদিকে, সোমবার সকালে বিদ্যালয় খুলতেই চুরির বিষয়টি নজরে আসে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যান্য সরকারি স্কুলের মতোই এই বিদ্যালয়েও কোনো নৈশপ্রহরী নেই, যার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্কুলের শিক্ষকদের ধারণা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুষ্কৃতীরা গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ প্রায় ৮ থেকে ১০টি কক্ষের আলমারি ভেঙে তছনছ করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে নতুন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির প্রক্রিয়া চলায় এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু ফান্ডের টাকা থাকায় আলমারিতে নগদ অর্থ রাখা ছিল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে চোরের দল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য দামী সামগ্রী থাকা সত্ত্বেও চোরেরা সেগুলোতে হাত দেয়নি, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল কেবল নগদ টাকা।
এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে খোয়াই থানার পুলিশ বিদ্যালয়ে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীরাও বিদ্যালয়ে ছুটে যান। এই ঘটনাটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সদিচ্ছা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
