গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ মে || রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিপাত, যার জেরে জেলায় জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আবহে খোয়াই থেকে আগরতলা ভায়া সুবলসিং (NH108B) জাতীয় সড়কের অবস্থা এখন শোচনীয়। জনসাধারণের যাতায়াত মসৃণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছর কাজ চললেও, একের পর এক ঠিকাদারের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ার ফলে এই ‘লাইফ-লাইন’ এখন কার্যত ‘লাইফ-রিস্ক’ বা জীবনঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
বিকল্প পথ হিসেবে তেলিয়ামুড়া ও বড়মুড়া পাহাড় হয়ে রাজধানীতে যাওয়ার রাস্তা থাকলেও, সেটির অবস্থাও তথৈবচ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে খোয়াই ও ধলাই জেলার হাজার হাজার মানুষ চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজ্য বিধানসভায় মাত্র এক-দুজন বিধায়ক ব্যতীত এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কাউকেই সরব হতে দেখা যায়নি।
রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা এই সড়কের বেহাল দশা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন। সম্প্রতি বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনেও তিনি বিষয়টি উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অধ্যক্ষ প্রাসঙ্গিকতার দোহাই দিয়ে তাঁকে সেই সুযোগ দেননি। অধিবেশন শেষ হওয়ার বেশ কয়েকদিন অতিক্রান্ত হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো মন্ত্রী বা আধিকারিকদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো হেলদোল দেখা যায়নি।
খোয়াই জেলায় মোট ৬টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে দুজন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী এবং একজন বিধানসভার মুখ্য সচেতক। একজন বিরোধী বিধায়ক বাদে বাকি সকলেই শাসক ও শরিক দলের সদস্য। খোয়াই এবং ধলাই জেলার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক হওয়া সত্ত্বেও কেন বাকি জনপ্রতিনিধিরা নীরব, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার পূর্ণ মরশুম শুরু হওয়ার আগে এই ‘মরণফাঁদ’ সংস্কারে খোয়াই ও ধলাইয়ের সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।
