টিএমপি মানে ‘তিপ্রা মিথ্যাবাদী পার্টি’: জনসভায় তিপ্রা মথাকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, জনসভার দিন এলাকার বাজার-হাট ছিল বন্ধ

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৯ এপ্রিল || আসন্ন টিটিএএডিসি (TTAADC) নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই রাজ্য রাজনীতিতে বাগযুদ্ধ এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার ৯-হালাহালি-আশারামবাড়ী কেন্দ্রের বিজেপি মনোনীত প্রার্থী অনন্ত দেববর্মার সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিপ্রামথা (TMP) দলের নতুন নামকরণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। এদিন তিনি ‘টিএমপি’ শব্দটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একে ‘তিপ্রা মিথ্যাবাদী পার্টি’ বলে অভিহিত করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই জনসভাকে কেন্দ্র করে এদিন বেহলাবাড়ী বাজার এলাকা একপ্রকার অচল ছিল। অভিযোগ উঠেছে, তিপ্রামথা পার্টির আগের দিনের সমাবেশের রেশ টেনে এদিন বাজার বনধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের পেটে লাথি মেরে এবং জোর করে বনধ পালন করিয়ে তিপ্রামথা পার্টি কার্যত বিজেপির পথই প্রশস্ত করছে। সাধারণ মানুষ এই সংস্কৃতি পছন্দ করেন না, তাই তাঁরা ভোটবাক্সেই এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”

ভিলেজ কমিটি (VC) নির্বাচন নিয়ে তিপরা মথার প্রচারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টিএমপি শুরু থেকেই এই ইস্যুতে মিথ্যাচার করে আসছে। তিনি দাবি করেন, “টিএমপি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেও শেষ পর্যন্ত গেজেট নোটিফিকেশন তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে যেখানে আইনত ভিলেজ কমিটিই নেই, সেখানে নির্বাচন হবে কী করে? অথচ মানুষের চোখে ধুলো দিতে তারা জোর করে ১২৩টি ভিলেজ কমিটি ঘোষণা করে দিয়েছে।” নীতি-আদর্শহীন রাজনীতির কারণেই অনন্ত দেববর্মা তিপরা মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারবার তিপ্রামথা পার্টিকে ‘মিথ্যাবাদী পার্টি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, শুধুমাত্র আবেগকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে বেশিদিন বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী এবং পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিজেপির জয় এখন সময়ের দাবি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে খোয়াই জেলার বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দেয়। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি খোয়াই জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মা, প্রার্থী অনন্ত দেববর্মা সহ আশারামবাড়ী ও খোয়াই মন্ডলের সভাপতি ও নেতৃত্বরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*