বিজয়ী হয়েই প্রতিশ্রুতি পূরণ: ক্ষুধার্ত পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে জনমন জিতলেন জেমস দেববর্মা

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ এপ্রিল || রামচন্দ্রঘাটের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন জেমস দেববর্মার জন্য। শেষ হাসিটা তারাই হাসলেন। রাজনীতির ময়দানে জয়-পরাজয় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, কিন্তু জয়ী হওয়ার পর সাধারণ মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। ১২-রামচন্দ্রঘাট কেন্দ্রে রেকর্ড মার্জিনে জয়ী হয়ে সেই অনন্য নজির স্থাপন করলেন তিপ্রামথা পার্টির নবনির্বাচিত এমডিসি জেমস দেববর্মা। বিজয় উৎসবের আবহেও তিনি ভুলে যাননি নির্বাচনী প্রচারের সময় দেখা সেই চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারটির কথা।
প্রার্থী তালিকায় জেমস দেববর্মার নাম আসার পর বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা দক্ষ সংগঠক রঞ্জিত দেববর্মা। আজ ফলাফলের পর প্রমাণিত হলো, রামচন্দ্রঘাটের মানুষ তাঁকে বহিরাগত নয়, বরং নিজেদের ঘরের ছেলে হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন জেমস দেববর্মা এক অসহায় পরিবারের সন্ধান পেয়েছিলেন, যাঁদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। সেদিন তিনি কথা দিয়েছিলেন, নির্বাচনের ফল যাই হোক, তিনি জয়ী হয়েই প্রথম তাঁদের মুখে অন্ন তুলে দেবেন। আজ জয়ের সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পর বিজয় মিছিলের জৌলুসে খুব বেশী গা না ভাসিয়ে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান সেই ক্ষুধার্ত পরিবারটির পাশে।
জেমস দেববর্মা যখন নিজ হাতে ওই পরিবারের সদস্যদের কাছে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র তুলে দেন, তখন এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামান্য খাবারের প্যাকেট হাতে পেয়ে ওই দরিদ্র মানুষগুলো যেমন কান্নায় ভেঙে পড়েন, ঠিক তেমনি তাঁদের চোখের জল দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি স্বয়ং জেমস দেববর্মাও। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের চোখও ভিজে ওঠে সেই মুহূর্তে।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পর ওই পরিবারের সদস্যদের সাথে বসে একসাথে চকোলেট খেয়ে নিজের জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর মুখে হাসি ফিরিয়ে দিয়ে জেমস দেববর্মা প্রমাণ করলেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করার এক পবিত্র মাধ্যম।
পরবর্তীতে জেমস দেববর্মা নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে লিখেছেন যে, মানুষের এই আশীর্বাদ ও ভালোবাসাই তাঁর আগামীর পথ চলার পাথেয়। রামচন্দ্রঘাটের সাধারণ মানুষ তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধির এই মানবিক রূপে অত্যন্ত খুশি ও আশাবাদী।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*