গোপাল সিং, খোয়াই, ০৩ মে || নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তির ক্রমবর্ধমান আক্রমণ মোকাবিলায় শ্রমজীবী মানুষের শক্তিকে সংহত করার আহ্বান জানিয়ে খোয়াইয়ে সমাপ্ত হলো ত্রিপুরা রাজ্য দিনমজুর ইউনিয়নের দশম রাজ্য সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।
রবিবার সম্মেলনের অন্তিম দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিআইটিইউ-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর প্রসাদ দত্ত বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে তাদের ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। আরএসএস ও বিজেপি মনুবাদী সংস্কৃতির প্রসারের মাধ্যমে শোষণের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, সমাজতন্ত্রই একমাত্র বিজ্ঞাননির্ভর ব্যবস্থা যা বেকার যুবকদের কাজের গ্যারান্টি এবং শ্রমিকদের উন্নত জীবন ও শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পারে। তাই সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক চেতনার মানোন্নয়ন ঘটিয়ে লড়াই জারি রাখার ডাক দেন তিনি। অন্যদিকে, সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্মল বিশ্বাস বলেন, পুঁজিপতি ও নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি শ্রমিকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে মুনাফার পাহাড় গড়ছে এবং অধিকার হরণের জন্য শ্রমকোড চাপিয়ে দিচ্ছে। এই আগ্রাসন রুখতে আন্দোলনের গতি বাড়ানোর বিকল্প নেই।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৭০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলনে একটি শোক প্রস্তাবের পাশাপাশি শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রমকোড বাতিল এবং এমজিএনরেগা প্রকল্প পুনরায় চালুর দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়। সম্মেলনের শেষ লগ্নে কাজল কান্তি দাসকে সভাপতি এবং চিত্তরঞ্জন দাসকে সম্পাদক নির্বাচিত করে ৫৫ সদস্যের নতুন রাজ্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী সম্পাদকমণ্ডলীও নির্বাচিত হয়। চিত্তরঞ্জন দাস, বিনয় ভূষণ সাহা ও লক্ষ্মী সিনহার সমন্বয়ে গঠিত সভাপতিমণ্ডলী দুই দিনের এই সম্মেলন পরিচালনা করেন।
