গোপাল সিং, খোয়াই, ০৩ মে || টিটিএএডিসি নির্বাচনের প্রাক-মুহূর্তে খোয়াই জেলার পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে আকস্মিক পরিবর্তন প্রশাসনের অন্দরে এক জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপারের জায়গায় যাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তাকে বর্তমানে একসঙ্গে দুটি জেলা সামলাতে হচ্ছে। একদিকে খোয়াই জেলা, অন্যদিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নতুন এসপি সাহেবকে অধিকাংশ সময় আগরতলাতেই ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে খোয়াই জেলার আইনশৃঙ্খলার ওপর নজরদারি ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
এই অকাল বদলির পাশাপাশি মুঙ্গিয়াকামী, চাম্পাহাওড় এবং বাইজালবাড়ী থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক) পরিবর্তন পুলিশ প্রশাসনকে আরও বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন এসপি রাণাদিত্য দাস দায়িত্ব নেওয়ার পর খোয়াই জেলায় সিরিজ চুরি কাণ্ড এবং অলিতে-গলিতে মাদক কারবারের বাড়বাড়ন্ত রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি একটি ‘স্পেশাল সিভিল টিম’ গঠন করে মাদক কারবারীদের নেটওয়ার্ক প্রায় ভেঙে দিয়েছিলেন। ঠিক যখন অবৈধ কারবারীদের নখদর্পণে নিয়ে আসা হয়েছিল, সেই মুহূর্তেই দক্ষ এই আধিকারিককে খোয়াই থেকে সরিয়ে রাজধানীতে গুরুত্বহীন করে রাখায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, প্রশাসনের উপরিস্তরে যখন ঘনঘন রদবদল হচ্ছে, তখন নিচু স্তরের পুলিশ কর্মীদের ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। জেলার বিভিন্ন থানায় দীর্ঘ ৭ থেকে ১০ বছর ধরে একই কর্মীরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জনগণের অভিযোগ, উনারা ডান আমলে ডান, বাম আমলে বাম আবার রাম আমলে রাম ভক্ত হয়ে থাকেন। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় থাকার ফলে নিচু স্তরের পুলিশ কর্মীদের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং অসামাজিক কাজের ‘রাঘববোয়াল’দের এক গভীর সখ্যতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পুলিশ প্রশাসনের অন্দরের গোপন খবর বা অভিযানের তথ্য মুহূর্তেই বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ ও অপরাধীদের এই গোপন আঁতাতের ফলে অপরাধীরা বাড়তি সাহস পাচ্ছে এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে। জনগণের অভিমত, নিচু স্তরের পুলিশ কর্মীদের মধ্যে দ্রুত রদবদল না ঘটালে মাদক ও চুরির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাতে অবিলম্বে জেলার প্রতিটি থানায় দীর্ঘ সময় ধরে থাকা পুলিশ কর্মীদের বদলি করার দাবি জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রশাসন এই স্থবিরতা ভাঙতে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।
