বিলোনিয়ার আমজাদনগরে সম্প্রীতির অনন্য নজির, মুসলিম যুবকের তৈরি রথে একসঙ্গে দড়ি টানলেন হিন্দু-মুসলিম

আপডেট প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ১৭ জুলাই || “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”—এই বার্তাকেই বাস্তবে রূপ দিল দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার মুসলিম অধ্যুষিত আমজাদনগর এলাকা। জগন্নাথদেবের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এদিন হিন্দু ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে উঠল সম্প্রীতি ও সৌভাতৃত্বের এক বিরল দৃষ্টান্ত।
স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার আমজাদনগরে এত বড় পরিসরে রথযাত্রা উদযাপিত হলো, যেখানে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে রথের দড়ি টেনে উৎসবে শামিল হন। রাধা-কৃষ্ণের সাজে নৃত্য ও ভক্তিমূলক পরিবেশনা উৎসবকে আরও বর্ণময় করে তোলে।
এদিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন স্থানীয় মুসলিম যুবক মিজান মিয়া। মাত্র ১২ দিনে তিনি সম্পূর্ণ রথ নির্মাণ করেন। শুধু তাই নয়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার তিনটি বিগ্রহ তৈরি করে তিনি সকলকে বিস্মিত করেন।
রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে মিজান মিয়া বলেন, সাধারণত একটি বিগ্রহ তৈরি করতেই দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। সেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তিনটি বিগ্রহ নির্মাণ করা তাঁর কাছেও এক অলৌকিক অভিজ্ঞতা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর চোখে জল চলে আসে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিমন্ত্রণ পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এমন আন্তরিকতা আগে কখনও অনুভব করেননি বলেও তাঁদের অভিমত। ভবিষ্যতেও উভয় সম্প্রদায় একে অপরের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী চন্দন দেবনাথ, বিপ্লব সেন, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য সুমন দেবনাথ, ঋষ্যমুখ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শম্ভুনাথ কর, বিলোনিয়া থানার ওসি সনজিৎ সেন, এলাকার প্রধান, রথযাত্রা কমিটির সদস্য-সদস্যাসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
অনুষ্ঠানে রথ ও বিগ্রহ নির্মাণে বিশেষ অবদানের জন্য শিল্পী মিজান মিয়াকে ফুল ও উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান উপস্থিত অতিথিরা। এই সম্মান পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, আমজাদনগরের এই রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে রাজ্যের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*