ছেলের হার্টের অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন ৩-৪ লক্ষ টাকা, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন অসহায় মায়ের

নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ০৩ নভেম্বর || ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই অর্থ জোগাড় করতে পারছেন না পরিবার। তাই অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে সাহায্যের আবেদন জানালেন অসহায় মা বিজলী ধর। একই সঙ্গে রাজ্যের সহৃদয় মানুষের কাছেও আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাব্রুম মহকুমার রূপাইছড়ি এডিসি ভিলেজের মংগচা চাই মগ পাড়ার বাসিন্দা মৃত সাধন চন্দ্র ধরের ছেলে সুজন ধর গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যায় ভুগছেন। রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি রাজ্যের বাইরেও তাঁর চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁর হার্টের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এই অস্ত্রোপচারের জন্য আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ছেলের চিকিৎসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে মা বিজলী ধরের।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজলী ধর জানান, তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। অনেক কষ্ট করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সংসারের আর্থিক হাল ধরতে ছেলে সুজন বিদেশে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। তাঁর উপার্জনেই চলত সংসার। কিন্তু বাড়িতে ফিরে আসার পর হঠাৎ শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁর হৃদ্‌রোগের সমস্যা ধরা পড়ে।
একদিকে ছেলের অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল খরচ—এই দুইয়ের চাপে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিজলী ধর। ছেলেকে সুস্থ করে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা করানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে বিশেষভাবে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন বিজলী ধর। পাশাপাশি রাজ্যের সহৃদয় ও বিত্তবান মানুষের কাছেও ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।
অসহায় এই মায়ের একটাই প্রত্যাশা, অর্থের অভাবে যেন ছেলের চিকিৎসা থমকে না যায়। প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করিয়ে ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় এখন সরকারি সহায়তা ও রাজ্যবাসীর সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*