আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। মধ্য আকাশে অবস্থানরত যাত্রীবাহী বিমান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস করতে সক্ষম আধুনিক অস্ত্র তৈরি করেছে আইএস’র বিজ্ঞানী ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক কট্টর ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) স্বঘোষিত খিলাফতের রাজধানী সিরীয় শহর রাকায় জঙ্গিদের নির্মিত থার্মাল ব্যাটারি তৈরির ছবি প্রকাশ করেছে। ‘সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল’, অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম সামরিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের জন্য এসব থার্মাল ব্যাটারি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ সূত্রে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এ ধরনের অস্ত্র পর্যন্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর হাত পৌঁছেছে কয়েক দশক আগেই। কিন্তু দিনের পর দিন সেগুলো জমিয়ে তা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকরে গুরুত্বপূর্ণ থার্মাল ব্যাটারি তৈরি করা, তাও আধুনিক জ্ঞানের ব্যবহার ছাড়াই, অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তাই এ ধরনের ব্যাপারে আইএস’র এই অগ্রগতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জানা গেছে, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনী প্রবেশের পরপরই রুশ বিমান ভূপাতিত করার জন্য আফগান মুজাহিদিনকে ‘স্টিঙ্গার মিসাইল’ ব্যবহার করতে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন থেকেই এমন আশঙ্কা ছিল যে পশ্চিমা বাহিনীর বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র তালেবান জঙ্গিরাও ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে যে থার্মাল ব্যাটারির মাধ্যমে আইএস হাজার হাজার অব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারে। সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই নিউজের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পর তাতে সঠিকভাবে আঘাত হানার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ রয়েছে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের। ২০১৪ সালে ইরাকে অগ্রসর হতে শুরু করে আইএস এবং দখল করে নেয় ইরাক ও সিরিয়ার একটি বিশাল অংশ। সে সময় ইরাকী সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার জন্য মার্কিন প্রশাসনের সরবরাহকৃত বিপুল পরিমাণ যানবাহন, আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি ক্ষেপণাস্ত্রও লুট করে নিয়েছিল আইএস। ধারণা করা হচ্ছে, মজুদকৃত অব্যবহৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পশ্চিমা সামরিক যন্ত্রপাতিই ব্যবহার করছে সংগঠনটি। স্কাই নিউজকে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির যোদ্ধাদের সরবরাহ করা অন্য এক ফুটেজে রিমোট-নিয়ন্ত্রিত বড় বড় গাড়ির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করতে দেখা গেছে আইএস-কে। এই ফুটেজ ফ্রি সিরিয়ান আর্মি পেয়েছে তুরস্কে ধরা পড়া এক আইএস প্রশিক্ষকের কাছ থেকে।
ফুটেজে আরো দেখা গেছে, জঙ্গিরা মানবাকৃতির পুতুলের মধ্যে কৃত্রিমভাবে মানবদেহের তাপ সৃষ্টি ও তা ব্যবহার করে এমন কৌশল আবিষ্কার করেছে, যার মাধ্যমে নিরাপত্তা খাতে ব্যবহৃত আধুনিক সব যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানিং মেশিনের নজর এড়িয়ে চলতে পারে গাড়িগুলো এবং এরপর দূরের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা করে। সংগৃহীত এসব ভিডিও কয়েক ঘণ্টা দীর্ঘ। এগুলোতে রয়েছে নিজ নিজ দেশে হামলা পরিচালনার জন্য জিহাদিদের প্রতি নির্দেশনা হিসবে প্রশিক্ষণমূলক ভিডিও-ও।
