সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৫ জুলাই || মৃত্যু হল এক যুবকের। প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ল শতাধিক বাড়ী ঘর, দোকান পাট সহ যান বাহন। বাদ গেলনা গবাদি পশুও। ধ্বংসের এই তাণ্ডবলীলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন, সর্বস্ব হারিয়েছেন তাদের পাশে কিংবা পরিস্থিতি সামাল দিতে টিকির নাগাল পাওয়া গেল না কোন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতার। ডান, বাম বা রাষ্ট্রবাদী, সকলেই একই পথে হাঁটলেন।
ঘটনার চারদিনের মাথায় সোমবার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী টিংকু রায়, প্রাক্তন সাংসদ তথা এলাকার ছেলে রেবতী ত্রিপুরা আর বিজেপি’র নেতৃত্বে সুবল ভৌমিক গেলেন গন্ডাছড়ায়। তাও দুর্গতদের খোঁজ নিতে তাদের পাশে নয়, মহকুমা শাসকের অফিসে। আর তাতেই চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হল এদিন। সেখানে গিয়ে চরম অপমানিত ও নিগৃহীত হলেন নেতারা। ভাঙচুর হল মহকুমা শাসকের অফিস।
এদিন সকালে পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে মন্ত্রী টিংকু রায়, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা এবং নেতা সুবল ভৌমিক পৌঁছান গন্ডাছড়ায়। ত্রাণ শিবিরে মানুষ কেমন সাহায্য পাচ্ছেন, ক্ষতিপূরণের কাজ কতটুকু এগিয়েছে এই সব বিষয়ে খোঁজ খবর নিতেই যান তারা। কিন্তু তাদের সফরের খবর আগে জেনে যান মানুষ। নির্যাতিত মানুষজন ভিড় করেন মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে। নেতা মন্ত্রীরা পৌঁছতেই তাদের ছেঁকে ধরেন মানুষ। ‘এখন কিতা করতে আইছেন? এতদিন কই আছলেন? আমরা কি মরছি নি খবর নিতে আইছেন? – এই সব উত্তপ্ত প্রশ্নে নেতা মন্ত্রীদের বিব্রত করেন আক্রান্ত মানুষ। রীতিমতো অপমানিত হন নেতারা। কোন রকমে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পৌঁছে দেন মহকুমা শাসক অফিসে। এরপর ক্ষুব্ধ মানুষ ভাঙচুর চালান মহকুমা শাসক অফিসে।
এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা গন্ডাছড়া মহকুমায়। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেখানে। গণরোষের তীব্রতায় মানুষের যন্ত্রণার কিছু আভাস এদিন নেতারা পেলেন বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। যদিও এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে রাগ না বলে, মানুষের যন্ত্রণা ও অসহায় অবস্থার প্রতিফলন বললেন মন্ত্রী টিংকু রায়। তিনি আশ্বস্ত করলেন দ্রুত সাহায্যের। মুখ্যমন্ত্রী তাদের পাশে আছেন এই বার্তাও দিলেন মন্ত্রী টিংকু রায়। পাশাপাশি তিনি আহবান রাখলেন শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখার।
