চেনা ছন্দে ফিরেছে মহকুমা, গন্ডাছড়া বাজারের সাপ্তাহিক হাটবারে দিনভর ক্রেতা বিক্রেতার ভিড়

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৮ জুলাই || ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফিরছে গন্ডাছড়া। জেলা শাসকের  লাগাতার পরিশ্রমে এবং জেলা পুলিশ সুপারের অক্লান্ত কাজে অনেকটাই আগের চেনা ছন্দে ফিরেছে মহকুমা। বৃহস্পতিবার ছিল গন্ডাছড়া মহকুমা বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার এইদিন দিনভর বাজারে মানুষের আনাগোনা, ক্রেতা বিক্রেতার ভিড় আর আলাপ চারিতার পুরোনো সেই ছবি আবার ফিরে এসেছে। যানবাহন চলাচল  ছিল স্বাভাবিক যাত্রীদের ভিড়ও ছিল। তবে গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের দুটি শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ১০৭ পরিবারের মোট ৪৩৫ জন মানুষ যাদের মধ্যে এক বছরের শিশুও রয়েছে ৭ জন তারা অধীর আগ্রহে চাইছেন ঘরে ফিরতে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় আনন্দমেলার আসরে এক অনাকাঙ্খিত ঝামেলায় পড়ে মার খান মহকুমার কলেজ পড়ুয়া পরমেশ্বর রিয়াং। গত শুক্রবার সকালে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সত্যিই দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক ঘটনা একজন পিতা-মাতা তার সন্তানকে হারিয়েছেন এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছে সকল অংশের মানুষজন। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসার আগুন উস্কে দিয়ে শুক্রবার রাতে প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হয় কমপক্ষে ৭০টি বাড়ি এবং ৪৪টি দোকান। পুড়ে যায় যান বাহন, সহায় সম্পত্তি এমনকি গবাদি পশুও। তাদের কি দোষ ছিল? যে সকল ব্যবসায়ীদের দোকানপাট এবং যাদের বসত বাড়ি ঘর পুড়ে ছাই হলো, সর্বস্ব হারালো তাদের আর্থনাথ কান্নার জবাব দিবে কে? গন্ডাছড়াতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি সত্যিই কি অনাকাঙ্ক্ষিত নাকি পরিকল্পিত? জনগণের মনে উঠছে প্রশ্ন পুলিশ প্রশাসন সঠিক তদন্ত করলে সত্যের উন্মোচন হবে বলে মনে করছে শুভবুদ্ধির সম্পন্ন মানুষজন।
এছাড়া জনগণ জানতে চাইছেন প্রশাসনের সামনে কি করে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারীরা এই ধরনের আক্রমণের সাহস পায়। সূত্রের দাবি, যে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির আঙ্গুলি হেলন ছাড়া এই কাজ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এলাকার জনগণের অভিযোগ, আক্রমণকারীদের মধ্যে স্থানীয় দুষ্কৃতীর সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য বাইরে থেকে আসা একটি বৃহৎ গোষ্টি এই কাজ সংঘটিত করেছে যাদের উদ্দেশ্য ছিল দুইটি। একটি হচ্ছে অবাধে লুটতরাজ করা আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরী করে রাজনীতিতে টিকে থাকা। রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এলাকার শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষজনের দাবি বিষয়টিকে সঠিক তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি প্রশাসনের মধ্যে এমন কারা কারা রয়েছেন যারা রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে তাদের চিহ্নিত করা হোক।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*