আশারামবাড়ি হামলা: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশি তৎপরতায় গ্রেপ্তার ৩, আদালতে পেশ; শরিকি দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ জুলাই || আশারামবাড়িতে বিজেপি’র ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সোমবার তাদের খোয়াই আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের পরেও থামেনি রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ এই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ তোলায় শাসক জোটের অন্দরের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এসেছে।?j
রবিবার আশারামবাড়ীর ৩০নং বুথে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান চলাকালীন হামলায় মন্ডল সভাপতি সহ বহু বিজেপি কার্যকর্তা আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পরেই পুলিশি তৎপরতায় রিন্টু দেববর্মা, তাপস দেববর্মা এবং শচীন্দ্র দেববর্মা নামে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ খোয়াই থানা থেকে তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, তাদের ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
এদিকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং স্পষ্ট জানান, “এই ধরনের নির্লজ্জ ও সহিংস আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পরেই যখন বিজেপি নেতৃত্ব তিপ্রা মথাকে কাঠগড়ায় তুলছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল মথা শিবিরে। বনমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অনিমেষ দেববর্মা এবং প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ উভয়েই তাঁদের দলের কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। প্রদ্যোত কিশোর পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “আশারামবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি দলে নাকি সিপিএমের প্রাক্তন নেতারা পদ দখল করে আছে। যারা কাল সিপিএম ছিল, আজ তারাই বিজেপিতে পদাধিকারী।”
শাসক বনাম শরিকের এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়িতে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলবে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে জনমনে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*