চোর রুখতে পুলিশের ‘নয়া ঢাল’ স্থানীয় যুবকরা, কিন্তু সীমান্ত প্রহরা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন, কাঠগড়ায় বিএসএফ

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ জুলাই || খোয়াইয়ে লাগাতার চুরির ঘটনায় রাশ টানতে এবার স্থানীয় যুবকদের নিয়ে এক বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ। খোয়াই থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি কৃষ্ণধন সরকারের নেতৃত্বে গঠিত এই দলের লক্ষ্য, সীমান্ত পেরিয়ে আসা বাংলাদেশি চোরদের আটকানো। কিন্তু পুলিশের এই উদ্যোগের মধ্যেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ভূমিকা এবং সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খোয়াই থানা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই সেই কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবাধে মানুষ পারাপার করছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, এই অবৈধ পারাপার কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানদের চোখের সামনেই ঘটছে, যা সীমান্ত পাহারার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। কীভাবে চলছে এই অবৈধ পারাপার?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় দালাল চক্র এই অবৈধ পারাপারের মূল হোতা। স্থানীয় জনগণের দাবি, খোয়াই পূর্ণিমা স্কুলের সামনে তারা সিসিটিভির ‘ব্লাইন্ড স্পট’ চিহ্নিত করে কাঁটাতারের বেড়ার উপর বাঁশ ফেলে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে দেয়। এই পথেই রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশি চোরের দল ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং স্থানীয় চোরদের সঙ্গে মিলে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটায়। জনসাধারণের মতে, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার করছে, তারা চোর না হলেও আইনের চোখে অপরাধী। আর তাদের এই কাজে সহায়তা করে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা আরও বড় অপরাধ করছেন। “সর্ষের মধ্যেই যদি ভূত থাকে, তবে সেই ভূত তাড়াবে কে?”—এই প্রশ্নই এখন খোয়াইবাসীর মুখে মুখে। পুলিশ স্থানীয় যুবকদের নিয়ে দল গঠন করলেও, মূল সমস্যা সীমান্তে। যতদিন না সীমান্ত সুরক্ষিত হচ্ছে এবং বিএসএফ-এর গাফিলতি বন্ধ হচ্ছে, ততদিন এই চুরির উপদ্রব বন্ধ করা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন খোয়াইবাসী।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*