নয় মাসের শিশুকন্যার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য, চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগে জর্জরিত শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতাল

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৯ জুলাই || শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে নয় মাসের এক শিশুকন্যার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কোথাও যেন টলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, রবিবার সকাল আনুমানিক ৬টা নাগাদ শান্তিরবাজার মহকুমার কালাছড়া এলাকার বাসিন্দা রাজীব দাস তার নয়মাসের কন্যাকে নিয়ে আসেন জেলা হাসপাতালে। পরিবারের দাবি, শনিবার রাত থেকেই দিকসা পেটের যন্ত্রনায় ভুগছিল। শিশুটিকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেবশ্রী রিয়াং তাকে দেখে দুটি ওষুধ লিখে দেন। এরপর রাজীব দাস হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে ফেরার পথে একটি ওষুধ শিশুটিকে খাইয়ে দেন।
অভিযোগ, ওষুধ খাওয়ানোর পরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরপর শিশুটিকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাকি ডিউটি শেষ হয়েছে জানিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান—এমনই অভিযোগ দিকসার পরিবারের।
ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার। তাদের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা পেলে দিকসাকে বাঁচানো যেত। আরও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসে পরিবারের পক্ষ থেকে—শান্তিরবাজার থানার এসআই সমীর বাবুর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, চিকিৎসক জনজাতি হওয়ায় এসআই সমীর বাবু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক ভয়ের কথা তুলে ধরেন। এমনকি জানান, চিকিৎসক দেবশ্রী রিয়াং তিপ্রামথা দলের সঙ্গে যুক্ত, তাই কোনো অভিযোগ জানালে দল এসে প্রতিবাদ করবে।
পরিস্থিতি ঘনিয়ে উঠলে শান্তিরবাজার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডাঃ জে. এস. রিয়াং-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। ডাঃ রিয়াং জানান, ঘটনার খবর পেয়েই তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানেন। তিনি আরও বলেন, শিশুটিকে যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের পর দিকসা দাসের মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালে গাফিলতি নিয়ে ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*