গোপাল সিং, খোয়াই, ১৯ আগস্ট || দীর্ঘদিন ধরে চলা ক্ষোভের বাঁধ ভাঙল অবশেষে। জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা NHIDCL-এর পাথর বোঝাই ভারী গাড়ির দাপটে রাস্তা ভেঙে মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে খোয়াইয়ের লালটিলা এলাকায় পথ অবরোধে সামিল হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আবেদন-নিবেদন করেও রাস্তা মেরামত না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা জাতীয় সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত লরিগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে দিয়েছেন।
উত্তর রামচন্দ্রঘাটের অধীন লালটিলা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছুদিন আগেই তাঁদের এলাকার রাস্তাটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। NHIDCL-এর পাথর ও অন্যান্য সামগ্রী বোঝাই ভারী লরিগুলি এই রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল শুরু করার পরেই তা ভাঙতে শুরু করে। ধীরে ধীরে রাস্তার উপর তৈরি হয় বড় বড় গর্ত, যা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
নিয়মকে বুড়ো আঙুল, ১০ টনের রাস্তায় চলছে সর্বোচ্চ ৪১ টন! বিক্ষুব্ধ জনতা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা পূর্ত দপ্তর থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, যে রাস্তায় গাড়ির সর্বোচ্চ বহন ক্ষমতা ১০ টন, সেখানে NHIDCL-এর প্রতিটি লরি প্রায় ৪১ টন পর্যন্ত মাল বহন করছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকারী নিয়মকে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এই অতিরিক্ত ওজনের গাড়িগুলি দিনের পর দিন চলাচল করছে? প্রশাসন কি তবে দেখেও দেখছে না? এর আগেও একবার এলাকার মানুষ এই গাড়িগুলিকে আটক করে এই রাস্তায় চলাচল করতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের শুরু হয় তাদের দাপট।এভাবেই প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে ক্ষোভ ও দুর্ঘটনা। এই ঘটনা শুধু লালটিলার নয়, খোয়াইয়ের প্রায় প্রতিটি রাস্তারই একই দশা। একদিকে জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা, অন্যদিকে শহর ও শহরতলীর রাস্তাগুলিরও বেহাল দশা। দীর্ঘ বছর পর সংস্কার হলেও, এই অতিরিক্ত ওজনের গাড়িগুলির দাপটে রাস্তাগুলি পুনরায় মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। তার উপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগাতার বৃষ্টি, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। প্রশাসন এবং সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার এই চূড়ান্ত উদাসীনতায় সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বাড়ছে পথ দুর্ঘটনা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। কিন্তু প্রশাসন যেন হাত গুটিয়ে বসে আছে। লালটিলার এই অবরোধ হয়তো সেই নীরবতার বিরুদ্ধেই এক জোরদার প্রতিবাদ, যার প্রতিধ্বনি হয়তো এবার প্রশাসনের কানে পৌঁছবে, এমনটাই আশা করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
