বনমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ‘প্রজেক্ট পরিবেশ’-এর উদ্বোধন: সবুজ ভবিষ্যৎ ও টেকসই উন্নয়নের পথে অঙ্গীকার

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৬ সেপ্টেম্বর || ত্রিপুরায় পরিবেশ রক্ষায় নতুন দিশা খুলে দিল খোয়াই জেলা। বৃহস্পতিবার পূর্ব তকছায়াবাড়ি ভি.সি. গ্রাউন্ডে (তুলশিখর) বন দপ্তরের উদ্যোগে ‘সেবা পর্ব’ উপলক্ষে আয়োজিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বন ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। তাঁর হাত ধরেই এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ সূচনা হয়।
এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক ও বিধায়িকা কল্যাণী রায়, খোয়াই জেলা শাসক ও সমাহর্তা রজত পন্থ, খোয়াই জেলা পুলিশ সুপার রাণাদিত্য দাসসহ প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশিষ্টজনেরা। মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ কেবল প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাই নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য এক সবুজ, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার পথও সুগম করে। বিধায়িকা কল্যাণী রায় এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং জনসাধারণকে বৃহত্তর স্বার্থে প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান। জেলা শাসক রজত পন্থ পরিবেশ রক্ষায় জনসেবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।
এদিকে খোয়াই মহকুমার তুলশিখর ব্লকের অন্তর্গত বেহালাবাড়ি গ্রামে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। জৈবপ্রযুক্তি দপ্তর ও ‘আশ্রয়’ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় ‘প্রজেক্ট পরিবেশ’, যা মূলত ‘বায়ো ভিলেজ ২.০’ প্রকল্পের প্রতিরূপ। বুধবার বেহালাবাড়ি কমিউনিটি হলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বন ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আশ্রয়’ ফাউন্ডেশনের পরিচালক নলিনী কুমার জেনিল ধারণী, এইচএসবিসি ব্যাংকের সিএসআর ইনচার্জ, এবং জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক ও ‘বায়ো ভিলেজ’ প্রকল্পের পথিকৃৎ অঞ্জন সেনগুপ্ত। মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা তাঁর বক্তব্যে ‘আশ্রয়’ ফাউন্ডেশন ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের এই মহৎ পদক্ষেপকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বেহালাবাড়িকে ‘জৈব গ্রাম’ হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক টেকসই উন্নয়নের পথে রাজ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের মোট ৫৬ জন বাসিন্দাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেককে ৩ থেকে ৫টি জৈব পণ্যের চাষ ও উৎপাদনে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বেহালাবাড়ি থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ সফল হলে রাজ্যের অন্যান্য গ্রামেও ‘বায়ো ভিলেজ’ প্রকল্প প্রসারিত হবে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে।
এই দ্বিমুখী কর্মসূচি—একদিকে বৃক্ষরোপণ অভিযান, অন্যদিকে ‘প্রজেক্ট পরিবেশ’-এর উদ্বোধন—ত্রিপুরার পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার এবং গ্রামীণ জীবনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*