ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখালেন প্রদ্যুত — গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড নিয়ে নতুন আশার বার্তা আস্তাবল ময়দানে

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৭ নভেম্বর || রাজধানী আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যুৎ কিশোর দেব বর্মণের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে জনমনে। কারণ, তাঁর বক্তব্যের ভেতরেই ধরা পড়েছে একাধিক পরস্পরবিরোধী সংকেত। শুরুতে তিনি দাবি করেন, বিভাজনের রাজনীতি তিপ্রাসাদের গরিব করে তুলেছিল, অতীতে দ্রাউ কুমার রিয়াং, বি কে রাঙ্খল, দেবব্রত কলই, নগেন্দ্র জামাতিয়া বা শ্যামাচরণ ত্রিপুরার মতো বহু মানুষের কাছে ছিল না ফোন, পাকা ঘর বা গাড়ি। আবার সেই বক্তব্যের পরই তিনি বলেন, আজ তিপ্রাসাদের কাছে রয়েছে সব— ফোন, বাইক, গাড়ি, শিক্ষার সুযোগ। এতে স্বভাবতই প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ— যখন প্রদ্যুৎ নিজেই বলছেন যে তিপ্রাসাদের জীবনমান আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে, তখন ‘বঞ্চনার’ সুর কতটা বাস্তব? এই দাবি কি রাজনৈতিক স্লোগান ছাড়া আর কিছু?
এরপর আসে ‘থানসা’র প্রসঙ্গ। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’, লোকসভায় ‘লাস্ট ফাইট’, এডিসির আগে ‘থানসা’, আর এখন আগাম প্রস্তুতি হিসাবে ‘ওয়ান নর্থ ইস্ট’— প্রতিটি নির্বাচনের আগে নতুন শব্দ, নতুন স্লোগান, নতুন ফ্রেম তৈরি করছেন প্রদ্যুত। এবার তো তিনি নিজেই ঘোষণা করলেন গোটা উত্তর-পূর্বের ‘থানসা ওয়ান কিং’ হওয়ার অভিপ্রায়।
তবে মাঠের শেষ মুহূর্তে তাঁর মুখেই শোনা গেল আরেক চমক— ‘৫/১০ সাল বাদ, বা একদিন গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড জরুর মিলেগা’। অর্থাৎ নিজেই পূর্বের দাবিকে দূরে সরিয়ে দিয়ে এই ইস্যুকে আগামী দিনের স্বপ্ন-আশ্বাসের খাতায় ফেলে দিলেন। ফলে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা আরও স্পষ্ট— গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড এখন দূর অস্ত, আর আগামীর দু’টি বড় নির্বাচনে ফোকাস রেখে বুবাগ্রা নতুন করে তৈরি করছেন তাঁর ‘গ্রেটার প্ল্যান’।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*