সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২২ ডিসেম্বর || ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বড়মুড়া পাহাড় এলাকা। আত্মসমর্পণকারী বৈরী এনএলএফটি (NLFT) গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রবিবার গভীর রাতে বড়মুড়া পাহাড় সংলগ্ন আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধে বসে তারা।
গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণের পর সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী একাধিক প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় বাধ্য হয়েই তারা জাতীয় সড়ক অবরোধের পথ বেছে নিতে হয়েছে বলে দাবি গোষ্ঠীর সদস্যদের।
রবিবার গভীর রাত থেকেই জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। গভীর রাত ও ভোরে সড়ক বন্ধ থাকায় দু’দিকেই আটকে পড়ে বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অবরোধে বড়মুড়া পাহাড় থেকে হাওয়াইবাড়ি পর্যন্ত জাতীয় সড়কে সারি সারি গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবরোধস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। অবরোধকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চলে। শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়াগুলি ঊর্ধ্বতন মহলে পৌঁছে দেওয়া এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে অবশেষে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় আত্মসমর্পণকারী গোষ্ঠী।
অবরোধ উঠে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। তবে এই ঘটনার জেরে বড়মুড়া পাহাড় এলাকায় ফের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
