চরকবাই গ্রামে সাহিত্য ও সংস্কৃতির উৎসব, সমভূমির দশক পূর্তি উদ্‌যাপন

আপডেট প্রতিনিধি, শান্তির বাজার, ২১ জানুয়ারি || শান্তির বাজার মহকুমার চরকবাই গ্রামে সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠা ‘সমভূমি সামাজিক সংস্থা’-র দশক পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হলো ‘সমভূমি সাহিত্য উৎসব’। প্রায় দশ বছর আগে কবি অভীককুমার দে-র নিজস্ব উদ্যোগ ও নিরলস প্রচেষ্টায় এই সংস্থার সূচনা হয়।
সংস্থার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘সমভূমি গ্রন্থাগার, পাঠাগার ও লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহশালা’, বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ‘সমভূমি পথপাঠাগার’ এবং চালু হয়েছে ‘স্বরলিপি সংগীত বিদ্যালয়’। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ও সংস্থার কোষাধ্যক্ষ সুস্মিতা চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে নিয়মিত সংগীতচর্চা পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও ১৮ই জানুয়ারি পালিত হয় ‘সমভূমি সাহিত্য উৎসব’। বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও, এ বছর রাজ্যের রাজধানী থেকে প্রায় একশ কিলোমিটার দূরে কবি অভীককুমার দে-র সাহিত্য ও সংস্কৃতির পীঠস্থান—সমভূমি গ্রন্থাগারেই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
শান্তির বাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক সজলকান্তি বৈদ্য প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে স্বরলিপি সংগীত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রদীপের আলো ও সংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে সমভূমি গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. উমাশঙ্কর রায়, সিদ্ধার্থশেখর পাল চৌধুরী, এ. এস. হোসেন আহমেদ, রণজিৎ বণিক প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন কবি ও শিক্ষক অর্ধেন্দু ভৌমিক। উৎসবে বহু কবি, সাহিত্যিক ও স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজনের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সমভূমি সাহিত্যপত্র’-এর দশম সংখ্যা প্রকাশ। কবি উমাশঙ্কর রায়ের হাত ধরে প্রকাশিত হয় এই সংখ্যাটি, যার বিষয়—‘কবিতায় স্বতন্ত্র কারিগর আকমাল’। উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে ‘সমভূমি সাহিত্যপত্র’ টানা দশ বছর ধরে বিষয়ভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে। এর আগে ‘সমভূমি নির্বাচিত ত্রিপুরার নাট্য সংকলন’, তবলা সংখ্যা ‘না ধিন ধিন না’ এবং ‘গল্পের বাঁধন’-সহ একাধিক সংখ্যা পাঠকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কবি ও সম্পাদক অভীককুমার দে বলেন, “সাহিত্যের প্রকৃত সাধনার জন্য শহরকেন্দ্রিক ভাবনা ও গোষ্ঠীবাজ লেখকদের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা জরুরি। সমভূমি আমার সাহিত্যচেতনার লালনক্ষেত্র। রাজ্যের এই প্রান্তিক মাটি থেকেই আমি পৃথিবীর মানুষের কাছে কবিতা পৌঁছে দিতে চাই।”
এদিন কবি উমাশঙ্কর রায়ের দীর্ঘ সাহিত্য সাধনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে ‘সমভূমি সাহিত্য সম্মান’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভাস্কর্য শিল্পী বিদ্যুৎ দেবনাথকে প্রদান করা হয় ‘সমভূমি শিল্পী সম্মান’। উপস্থিত বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কবি অভীককুমার দে-র দীর্ঘদিনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী শ্যামল সরকার।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*