সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জোর ত্রিপুরা সরকারের, প্রজ্ঞা ভবনে শুরু দুই দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ জুলাই || রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং পুলিশ ও পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে শুরু হয়েছে দুই দিনের বিশেষ সচেতনতামূলক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ত্রিপুরা সরকারের পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে এবং স্কুল অব লজিস্টিকস, কমিউনিকেশন অ্যান্ড ওয়াটারওয়েজ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা পুলিশের আইজিপি (প্রশাসন) মনোজ চক্রবর্তী, পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত চৌধুরী, যুগ্ম সচিব সুশান্ত দত্ত, ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, পরিবহন দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধুমাত্র ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নয়, এটি গোটা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যেই পুলিশ ও পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকদের যৌথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।
মন্ত্রী জানান, রাজস্থান, কেরালা, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত বিশেষজ্ঞরা মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, দুর্ঘটনা তদন্তের আধুনিক পদ্ধতি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নানা দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী আধিকারিকরা পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ হিসেবে অন্যান্য পুলিশ ও পরিবহন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
সুশান্ত চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার আগে কার্যকর থাকা মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট, ১৯৩৯-এর পরিবর্তে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার চাহিদা মেটাতে ১৯৮৮ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীকালে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক সংশোধনের মাধ্যমে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার না করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের গাড়ি চালানোর মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে ত্রিপুরায় নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ৪ লক্ষ যানবাহন নিবন্ধিত ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮ লক্ষেরও বেশি হয়েছে। যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সুপ্রিম কোর্টের রোড সেফটি কমিটির সুপারিশ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির ফলে রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্তরে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হলেও ত্রিপুরায় সেই তুলনায় দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার অনেক কম। তবে এই সাফল্যে সরকার সন্তুষ্ট নয়। দুর্ঘটনা আরও কমিয়ে আনতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাফিক চালান কাটা বা জরিমানা আদায় সরকারের মূল উদ্দেশ্য নয়। মানুষের জীবন রক্ষা এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*