গোপাল সিং, খোয়াই, ১০ নভেম্বর ।। ৮ই নভেম্বর মঙ্গলবার, নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাঁচশো ও হাজার টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি এবং তা মঙ্গলবার রাত থেকেই লাগু হয়েছে। মোদীর এ হেন সিদ্ধান্তের পরে নড়েচড়ে বসেন সবাই। দেশের উদ্দেশে মোদীর ভাষণ শেষ হতে না হতেই এটিএমে পড়ে যায় লম্বা লাইন। গোটা দেশ আশঙ্কিত। মোদী অবশ্য দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে ব্যাঙ্কে, পোষ্ট অফিসে গিয়ে পাঁচশো ও হাজার টাকার নোট বদলানো সম্ভব। কিন্তু তাতেই কি সমস্যার সামাধান সম্ভব হচ্ছে ?এনিয়ে জোড় জল্পনার মধ্যেই গত তিন দিন ধরে খোয়াই জেলায় এর যে প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা কিন্তু মোটেই আশাপ্রদ নয়। সমাজদ্রোহীরা চারশ টাকা দিয়ে পাঁচশ টাকা কিনে নিচ্ছে। তদরূপ নয়শ টাকা দিয়ে এক হাজার টাকা কিনে নিচ্ছে। খোয়াই জেলায় গত তিন ধরে নানাভাবে গরীব-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের উপর বৈজ্ঞানিকভাবে মানসিক আঘাত হানার সুযোগ কোন স্তরের মানুষই হাতছাড়া করছেন না। সুযোগের সদ্ব্যাবহার যাকে বলে তার সম্পূর্ণটাই কাজে লাগিয়ে গ্রাম-পাহাড় এবং শহর কেন্দ্রীক চলছে অরাজক পরিস্থিতি। কোন শ্রমিক পাঁচশ টাকা নিয়ে বাজারে আসে কিন্তু বেশীর ভাগ ব্যবসায়ী সেই পাঁচশ টাকা নিতে চায়না। এদিকে সর্বত্রই সমাজদ্রোহী, দেশদ্রোহীরা বিচরন করছে। আর তাদের খপ্পরেই পড়তে হচ্ছে গরীব, শ্রমিক অংশের মানুষদের। সমাজদ্রোহীরা চারশ টাকা দিয়ে পাঁচশ টাকা কিনে নিচ্ছে। তদরূপ নয়শ টাকা দিয়ে এক হাজার টাকা কিনে নিচ্ছে। অথচ গরীব-শ্রমিক-মেহনতি মানুষরা হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে প্রাপ্ত মজুরীর টাকা নিয়ে বাজারে আসছেন। দিন আনি দিন খাই অবস্থার মধ্যে কোথায় যাবে তারা? আপাতত এই প্রশ্নের কোন সমাধান পাচ্ছেন না কেউই। সারাদিন খাটুনির পর যখন শ্রমিকদের হাতে মজুরী আসে তখন ব্যাঙ্ক থাকে বন্ধ। আর প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে যেতে সাধারন মানুষ এখন রীতিমতো ভয় পায়। গ্রাম-পাহাড়ের এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভাতার টাকা তোলার প্রয়োজন ছাড়া ব্যাঙ্কে আসেন না। প্রায় পরিবারেই মা-বোনেরা পরিশ্রম করে। বেশীরভাগ গ্রাম-পাহাড়ের মানুষ বাড়ীতেই টাকা গচ্ছিত রাখেন। যদিও এর পরিমান বেশী নয়। কারোর কাছে পাঁচ হাজার আবার কারোর কাছে খুব বেশী পঞ্চাশ হাজার টাকা। এর সবটাই ধান বিক্রি, গাছ বিক্রি, গবাদি পশু বিক্রি, দুধ বিক্রি বা দৈনিক মজুরী সহ বিভিন্ন আয়ের উৎস থেকে প্রাপ্ত টাকা।
সাধারন শ্রমিক অংশের মানুষের সরলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বুধবার থেকে গ্রাম-পাহাড়ে প্রবেশ করেছে দেশদ্রোহীরা। নানা রকম গুজবের গল্পকে গাছে চড়িয়ে ফাঁদ পেতে চলছে তারা। সমাজদ্রোহীরা তিনশ বা চারশ টাকা দিয়ে পাঁচশ টাকা কিনে নিচ্ছে। তদরূপ আটশ বা নয়শ টাকা দিয়ে এক হাজার টাকা কিনে নিচ্ছে। অপরপক্ষে দু’হাজার বা পাঁ হাজার টাকা নিয়ে শহরমুখী যারা হচ্ছেন তাদেরকে বলা হচ্ছে কতক্ষন ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন। টাকা নাও পেতে পারেন। সুতরাং সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশদ্রোহীদের পাতা ফাঁদে আটকে যাচ্ছে ছোট ছোট মাছগুলি। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনপ্রকার জনসচেতনতামুলক প্রচারের উদ্যোগ নেই।
জনগনের অভিযোগ জল সবসময় নিচের দিকেই গড়ায়। শহরের নামী-দামী লোকেরা বুক টান করে ব্যাঙ্কের ভেতর যাচ্ছেন আর নোট পাল্টে চলে আসছেন। গরীব-শ্রমিক-মেহনতি মানুষরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হা করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন আর হাপিত্যেষ করে বলছেন যত সমস্যা গরীব-শ্রমিকদেরই। অথচ বিভিন্ন সভা-সমাবেশ কিংবা লেখকের কলমেও উঠে আসে প্রত্যন্ত গ্রামবাংলার কথা, মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্য কথাই বলে আসছে। জনগন হারে হারে তা টের পাচ্ছেন।
