ফ্যাট মানেই ব্যাড নয়

fatস্বাস্থ্য ও সচেতনতা ডেস্ক ৷৷ সুস্থ থাকার জন্য, ওজন ধরে রাখার জন্য তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত। কারণ এতে শরীরে যেমন মেদ জমে, তেমনই হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি বাড়ে। এই ধারণাগুলো থেকেই ধীরে ধীরে ভিলেনে পরিণত হয়েছে তেল, ফ্যাট। তেল-চর্বি যে শরীরের জন্য সম্পূর্ণ অপকারী নয়, এমনকি শারীরবৃত্তীয় কাজের সঠিক সাম্য বজায় রাখার জন্য যে তেল-চর্বি খাওয়ার প্রয়োজন আছে তা অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখ করা হয় না। স্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট খেলে হার্টের অসুখ হয় না। এমনকি, বেশ কিছু হরমোন যেমন সেক্স হরমোনের জন্য ফ্যাট উপকারী। পাম তেল, নারকেল তেল, মাখন, চকোলেট, মাছের তেল, বাদাম জাতীয় খাবারে স্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটড ফ্যাট থাকে। চিকিৎসকরা জানান, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ২০ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া কখনই উচিত নয়। শরীরের প্রধান অঙ্গ ও হরমোনের সুস্থ কার্যকারিতার জন্য ডায়েটারি কোলেস্টেরল প্রয়োজন। প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৬০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি এইচডিএল কোলেস্টেরল থাকা উচিত। এই জাতীয় কোলেস্টেরল ভাল কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত। হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এইচডিএল কোলেস্টেরলের প্রয়োজন রয়েছে। যদি আপনার এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৪০ মিলিগ্রামের নীচে নেমে যায় তবে সেটা শরীরের জন্যে ভাল নয়। এলডিএল কোলেস্টেরল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এইচডিএল কোলেস্টেরলের প্রয়োজন। অলিভ অয়েল, বিনস, গোটা শস্য, ফাইবারযুক্ত ফল, তৈলাক্ত মাছ, সয়, অ্যাভোকাডো, রেড ওয়াইন খেলে এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। সাধারণত বিজ্ঞাপনে যে তেলগুলো হার্টের জন্য উপকারী হিসেবে দেখানো হয় অনেক সময়ই আসলে তা নয়। ফলে বিজ্ঞাপন দেখে নিজের খাবার বেছে নিবেন না, চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। যে সব তেল গরম হতে বেশি তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়, সেই সব তেলকেই স্বাস্থ্যকর বলেন বিশেষজ্ঞরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*