মানুষের পৃথিবীতে কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যার কোনো ব্যাক্ষা মানুষ করতে পারে না। আর ব্যাখা করতে না পেরেই সে মেনে নেই ঘটনাটি অলৌকিক। এমনি একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে এয়ার এশিয়ার হারিয়ে যাওয়া ইন্দোনেশীয় বিমানের এক যাত্রীর ক্ষেত্রে।
ঘটনা যা ঘটেছে তা দেখেশুনে এখন অনেকেই বলছেন এটা অলৌকিক ঘটনা। এয়ার এশিয়ার যে ইন্দোনেশীয় বিমানটি নিখোঁজ হয়েছে, এতে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। তারা ১০ জন একই পরিবারের সদস্য। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ফ্লাইট ধরা তাদের হলো না।
এ সময় এটা তাদের জন্য বিড়ম্বনা হলেও বিমানটি পৃথিবীতে তাদের আয়ু বাড়িয়ে দিল। এ ঘটনা তাদের জন্য সৌভাগ্যের। নিখোঁজ হওয়ার দুর্ভাগ্য থেকে রক্ষা পেয়ে যান তারা।
সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ১৬২ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ এয়ার এশিয়ার বিমানটি এখন সাগরতলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান বামবাং সোইলিস্তয়ো আজ এ কথা জানান।
ভাগ্যের জোরে রক্ষা পাওয়া এজন ক্রিস্টিয়ানাওয়াতির (৩৬) ভাষ্য, ১০ জনের মধ্যে তার নিজের পরিবার, তার মা ও ছোট ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরাও ছিল। এ ১০ জনের মধ্যে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ও চার শিশু। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তাদের সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা ছিল।
তবে বিমানের সময়সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তারা সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। তাদের বিমানটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ইন্দোনেশিয়া ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু বিমান উড্ডয়নের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট করা হয়।
বিষয়টি জানানোর জন্য এয়ার এশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের ফোন ও ই-মেইল করে। তবে তারা তা সময়মতো জানতে পারেননি। গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিমানবন্দরে গিয়ে যখন জানতে পারেন যে বিমানটি চলে গেছে, তখন তারা ক্ষিপ্ত হন।
এ সময় তারা আরেকটি বিমানের টিকিট ইস্যু করার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এরই একপর্যায়ে তারা শোনেন যে, ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। মুহূর্তে হতচকিত হয়ে যান তারা। মুখ দিয়ে বেশ কিছু সময় কথা বের হয় না তাদের।
ক্রিস্টিয়ানাওয়াতি বলেন, সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের যাত্রা বাতিল করি। খবরটি শুনে মর্মাহত হই এবং কেঁদে ফেলি। আমি ও আমার পরিবার যে বিমানটি ধরতে পারলাম না, এটি সম্ভবত ঈশ্বরেরই পরিকল্পনা ছিল। এর আড়ালে ছিল আশীর্বাদ।
ক্রিস্টিয়ানাওয়াতি জানান, বছরে দুবার তারা সিঙ্গাপুরে যান। প্রতিবারই তারা এয়ার এশিয়ার বিমানে যাত্রা করতেন। এ ঘটনার পর এয়ার এশিয়ার ওপর তাদেও আস্থা হোঁচট খেয়েছ।
