চলতি মাসেই মুক্তি পেতে চলেছে স্বল্প দৈর্ঘের তথ্যচিত্র “ত্রিপুরেশ্বরী – আধ্যাত্মিকতার পীঠভূমি”

IMG-20210103-WA0147আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৫ জানুয়ারী || ত্রিপুরা রাজ্যের কথা মনে হলেই যেন মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, মনে পড়ে তাঁর “রাজর্ষি” উপন্যাসের সেই কালজয়ী উক্তি “এত রক্ত কেন?”
মনে পড়ে গোবিন্দ মানিক্যের রাজত্ব কিংবা রঘুপতির পূজার কথা। মহাভারতে যেই রাজ্য ছিল কিরাত রাজ্য বা কিরাত দেশ, বর্তমানে তাই ত্রিপুরা। ত্রিপুরা নামটির উদ্ভব হয় ত্রিপুরার পৌরাণিক মহারাজা ত্রিপুরের নামানুসারে। বর্তমানে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য, আর সেই ত্রিপুরা রাজ্যেরই বিখ্যাত মন্দির ত্রিপুরাসুন্দরী। মন্দিরটিকে ৫১টি শক্তি পিঠের মধ্যে এক হিসাবে গণ্য করা হয়। কিংবদন্তী বলে যে সতীর ডান পা এখানে পড়ে ছিল। এখানে শক্তিকে ত্রিপুরা সুন্দরী হিসাবে উপাসনা করা হয় এবং সহচর ভৈরভ ত্রিপুরেশ নামে পরিচিত। প্রধান মন্দিরটি ১৫০১ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির মুঘল শাসনেরও পূর্বে ত্রিপুরার মহারাজা ধন্য মানিক্য কর্তৃক নির্মিত। এই মন্দির ঘিরে যেমন রয়েছে ঐতিহাসিকতা, তেমনি রয়েছে প্রচুর কিংবদন্তী!
তাই ত্রিপুরার ঐতিহ্য এবং ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির।
সেই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকেই নতুন করে খুঁজে পেতে চিত্র নির্মাতা অনির্বেদ চট্টোপাধ্যায় তার পরবর্তী তথ্যচিত্রতে তুলে আনতে চলেছেন ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির নিয়ে নির্মিত এক তথ্যচিত্রে। খুব সম্ভবত চলতি মাসেই এটি মুক্তি পেতে চলেছে।
তাছাড়াও তিনি তুলে আনবেন ধর্মের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বর্তমান সময় ও পরিপ্রেক্ষিতে তার অবস্থান, গুরুত্ব এবং মন্দিরের একাল সেকাল। বর্তমান প্রজন্ম কি চোখে দেখে এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে তাও উঠে আসবে এই তথ্যচিত্রে।
তথ্যচিত্রটিতে ভাষ্যপাঠ করেছেন অরুণাভ চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা নন্দী চক্রবর্তী ও শাল্মলী রায়। নির্মাণে অনির্বেদ চট্টোপাধ্যায়।
একটি বিশেষ ভূমিকায় রয়েছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক স্বপন ভট্টাচাৰ্য, যিনি মূলতঃ নিম্নলিখিত কয়েকটি বিষয়ের ওপরে তাঁর মূল্যবান মতামত দিয়েছেনঃ-
১) মন্দির প্রতিষ্ঠা, তার ঐতিহ্য ও ত্রিপুরাসুন্দরীর একাল সেকাল।
২) মায়ের সঙ্গে নিশ্চই অনেক গল্প বা কিংবদন্তি জড়িয়ে আছে। সেগুলো কিরকম?
৩) বিষ্ণুর মন্দিরে ত্রিপুরেশ্বরী কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেন? বৈষ্ণব এবং শাক্ত দুই ধারা কিভাবে মিলে গেল?
এইসব বিষয় নিয়ে থাকছে নির্মাতা অনির্বেদ চট্টোপাধ্যায়ের পরবর্তী তথ্যচিত্র “ত্রিপুরেশ্বরী – আধ্যাত্মিকতার পীঠভূমি”।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*