আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ১৮ আগষ্ট || গরু চোর সন্দেহে এলাকাবাসীরা বাইক ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সহ তিন যুবককে আটক করে প্রচণ্ড মারধোর করে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বক্সনগর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বাংলাদেশে কাপড় পাচার করার উদ্দেশ্যে বক্সনগর সীমান্ত দিয়ে চেষ্টা করে। বিএসএফের কড়া টহলের কারণে পাচার করতে না পেরে সোনামুড়া থানাধীন কমলনগর আনন্দপুর এলাকার সীমান্ত দিয়ে পাচার করতে বক্সনগর এলাকা থেকে দুইটি বুলেরো পিকআপ গাড়ি দিয়ে কাপড় সহ ২০ থেকে ২৫ জনের লেবার যায়।গাড়িগুলি লেবার ও পাচার সামগ্রী সীমান্তে নামিয়ে আনন্দপুর এলাকার একটি রাবার বাগানের সামনেই লেবার গুলিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে গাড়ির চালক ডালিম মিয়া ও দুই লেবার।
পরবর্তী সময়ে আনন্দপুর এলাকার সমীর রায় ও রণজিৎ রায়ের বাড়ি থেকে মোট পাঁচটি গরু চোরের দল চুরি করে রাবার বাগানে নিয়ে গিয়ে রাবার গাছের সাথে বেঁধে রাখে। হয়তো ব্যবসায়ীদের কথাবার্তা চোরের দল শুনতে পেয়ে গরু গাছে বেঁধে পালিয়ে যায়। আর তখন গরুর মালিক তাদের ঘরে গরু না দেখতে পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর রাবার বাগানে এসে গরু গুলি খুঁজে পায়। রাবার বাগানের সাথে ছিল টি আর -01টি -1542 নম্বরের একটি বুলেরো পিকআপ গাড়িসহ সাথে ছিল 150 মডেলের একটি পালসার বাইক। গাড়ির মধ্যে ছিল গাড়ির চালক ডালিম মিয়া সহ সুমন মিয়া ও বক্সনগর এলাকার শাহিনুল হক নামে এক যুবক। গ্রামবাসী তাদের দেখতে পেয়ে চোর সন্দেহে করে গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রচণ্ড মারধোর করে। এই ঘটনা ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে কমলনগর এলাকার প্রধানকে বিষয়টি জানালে প্রধান সাহেব সোনামুড়া থানার খবর দিয়ে সন্দেহ করা তিন ব্যক্তিকে থানায় তুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে গ্রামবাসীরা আচমকা গাড়ি ও বাইকে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাতে গাড়ি ও বাইক পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গাড়ির মালিক কলমচৌড়া থানাধীন পুটিয়া এলাকার ১নং ওয়ার্ডের ডালিম মিয়া। বাইকের মালিক বক্সনগর এলাকার। বিনা দোষে তাদের এই দুই দুই জনের বাইক ও গাড়ি খোয়াতে হলো। অপরদিকে চোর সন্দেহ করা তিন ব্যক্তির নামে সোনামুড়া থানায় চুরির মামলা নেয়া হয়। চুরি করা সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে এলাকাবাসীর প্রচণ্ড মারধোরের পর সোনামুড়া হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন। যদি পুলিশ সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারতো তাহলে এই তিনজন যুবককে গ্রামবাসী প্রাণে মেরে ফেলতো।
