রাষ্টীয় সন্মানে শেষ বিদায় শহিদ পুলিশ আধিকারিক সত্যজিৎ মল্লিক, শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৭ নভেম্বর || রাষ্টীয় সন্মানে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন শহিদ পুলিশ আধিকারিক সত্যজিৎ মল্লিককে। শ্রদ্ধা জানালেন বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরী সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। শোক প্রকাশ করলেন ক্রীড়া পর্ষদের সচিব অমিত রক্ষিত, বিজেপি খোয়াই মন্ডল সভাপতি সুব্রত মজুমদার সহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃত্বরা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে এক উন্মাদ যুবক ৪ জনকে নৃশংস খুনের ঘটনার খবর পেয়ে কর্তব্যপালন করতে গিয়ে খোয়াই থানার সেকেন্ড অফিসার সত্যজিৎ মল্লিককে শহীদ হতে হয়। পরবর্তী সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৬ জন। ঘটনা খোয়াইতে। খুন হলো দুই অবুুঝ সন্তান সহ আরও চার জন৷ ঘটনা খোয়াই লালটিলা শেওড়াতলির উত্তর রামচন্দ্রঘাট এলাকায়। ওই এলাকার প্রদীপ দেবরায় ওরফে কুট্টি, পিতা অসিত দেবরায় গত কয়েকদিন ধরে ‘মানসিক অবসাদে’ ভুগছেন৷ তিনি কারোর সাথে কথাবার্তা বলতেন না৷ শুক্রবার মধ্যরাতে তিনি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন৷ ঘরের মধ্যেই শাবল দিয়ে তার দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে খুন করে তার স্ত্রী মীনা পাল দেবরায়কে মারাত্মক ভাবে জখম করেছে৷ পরে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রদীপ এলাকার বিভিন্ন বাড়ি ঘরে গিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে৷ কিন্তু প্রতিবেশীরা ভয়ে ঘর থেকে প্রথম বেরোতে চায়নি৷ কিন্তু, পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে যে, প্রতিবেশীরা সকলেই বেরিয়ে পড়েন একসাথে৷ ততক্ষণে গোটা এলাকায় ‘ত্রাস’ সৃষ্টি করেছে প্রদীপ৷
একটা সময় প্রদীপ বেরিয়ে পড়ে ভিড় চৌমুহনী এলাকায়৷ রাস্তা দিয়ে একটি অটো আসছিল৷ ওই সময় প্রদীপ অটোটিকে দাঁড় করিয়ে অটোতে থাকা কৃষ্ণ দাস (৫৪) এবং তার ছেলে করণবীর দাসকে মারাত্মকভাবে জখম করে৷ ঘটনাস্থলেই কৃষ্ণ দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে খোয়াই থানা এবং জেলা হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে৷
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান খোয়াই থানার সেকেন্ড অফিসার সত্যজিৎ মল্লিক সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ কিন্তু, সত্যজিৎ মল্লিক সেখানে পৌঁছতেই প্রদীপ উন্মাদ হয়ে তাঁর উপর এলোপাথারি কোপ বসাতে থাকে৷ ঘটনাস্থলেই আরও বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত ও মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছেন৷
যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে প্রদীপকে পাকড়াও করে৷ পরে সকলের সহযোগিতায় রক্তাক্তদের নিয়ে আসা হয় খোয়াই হাসপাতালে৷ সেখান থেকে জিবিতেও রেফার করা হয়৷ কিন্তু, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহিদ হলেন খোয়াই থানার সেকেন্ড অফিসার সত্যজিৎ মল্লিক৷ তাঁকেও রাতেই নিয়ে আসা হয়েছিল জিবি হাসপাতালে৷ রাতে সংবাদ ভবন থেকে খোয়াই জেলার পুলিশ সুুপার কিরণ কুমারকে ফোন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, প্রদীপ দেবরায়কে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে৷ এই ঘটনায় মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে৷
প্রদীপ দেবরায়’র দুই কন্যা সন্তান, তার ভাই ও একজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে৷ মীনা পাল দেবরায়কে জিবিতে রেফার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি৷ অপরদিকে করণবীর দাসের চিকিৎসা চলছে খোয়াই হাসপাতালে৷ পুরো ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি, বাক্‌রুদ্ধ খোয়াইবাসী।
এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবও শোক জ্ঞাপন করেছেন। পাশাপাশি আক্রান্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা পোষন করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*