বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৫ আগস্ট || অন্যান্য বছরের ন্যায় এইবছরও শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত মনুবাজার দখলসিং রিয়াং পাড়ায় অনুষ্ঠীত হয় ২১’তম রাজ্যভিত্তিক ব্রু সংগ্রমা পূজা। প্রত্যের বছর ভাদ্র মাসের অমবস্যা তিথিতে এই পূজা সংগঠীত করা হয়। এইবছরও সমস্ত নিয়ম নিতি মেনে পূজা সংগঠিত করা হয়। ব্রু সংগ্রমায় রিয়াং জনজাতির ১৩টি কূলদেবদেবীর পূজা করা হয়। দুইদিন ব্যাপী চলবে এই পূজা। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পূজার শুভ সূচনা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উদ্ভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসার ডাঃ মানিক সাহা। উদ্ভোধকের পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী রামপদ জমাতিয়া, দক্ষিন জেলার জেলা শাসক সাজু ওয়াহিদ, দক্ষিন জেলার পুলিশ সুপার কুলবন্ত সিং, এম ডি সি পদ্মলোচন ত্রিপুরা, এম ডি সি সঞ্জীব রিয়াং, ব্রু সংগ্রমা মথহ এর জেনারেল সেক্রেটারী খনারাম রিয়াং সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরাকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচীর কথা জনসন্মুখে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী উনার ভাষনের মধ্যদিয়ে রাজ্য সরকারে জনজাতিদের বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে বলে জানান।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারতের রাষ্ট্রপতি জনজাতি সম্প্রদায়ের অপরদিকে জনজাতিদের সন্মানদিয়ে মহারাজার নামে বিমানবন্দরের নামাকরণ করা হয়েছে। আগরতলায় জনজাতিদের জন্য একটি ট্রাইবেল গেষ্ট হাউজ নির্মান করা হবে। ব্রু শরনার্থিদের পুনরবাসনের ব্যাবস্থা করছে রাজ্য সরকার। তার পাশাপাশি ত্রিপুরায় বসবাসকারী লোকজনদের ন্যায় ব্রু শরনার্থীদের সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সকলের ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান মু্খ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে মুখ্যমন্ত্রী জনকল্যানে রিয়াং জনাজাতিদের কূলদেবীর নিকট পূজা দেন। এই অনুষ্ঠানে উদ্ভোধন শেষে মঞ্চে অনুষ্ঠীত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারারাত ব্যাপী চলবে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পূজাকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন করা হয়। এই সমগ্র অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য ব্যাপক হারে লোকসমাগম ঘটে।
