সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৩ নভেম্বর || ‘মুঝকো পিনা হে পিনে দো, মুঝকো জিনা হে জিনে দো’ – এই গানের লাইনটি যেন এবার বাস্তবে রূপ পেল তেলিয়ামুড়া থানার এক মাতাল পুলিশ অফিসারের মাতাল সুলভ আচরণে। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা রাজ্যকে নেশা মুক্ত ত্রিপুরার ডাক দিচ্ছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তেলিয়ামুড়া থানার এই মাতাল পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তেলিয়ামুড়ার যুব সমাজ যেন নেশার কড়াল গ্ৰাসে আচ্ছন্ন হচ্ছে। তেলিয়ামুড়া থানায় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এস.আই রামকৃষ্ণ দাস, যে কিনা পুলিশ মহলে মাতাল পুলিশ বলে পরিচিত।
খবরে প্রকাশ, দীর্ঘদিন ধরেই তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ অফিসার রামকৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় থাকলেও ও.সি সুব্রত চক্রবর্তীর একেবারে পছন্দের সুপাত্র হওয়ার সুবাদে সবকিছু মাফ হয়ে এলেও এবার ওসি সুব্রতর পছন্দের সুপাত্র তথা মাতাল পুলিশ রামকৃষ্ণের বিরুদ্ধে ত্রিপুরা পুলিশ অ্যাক্ট ৯০ ধারায় গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার তেলিয়ামুড়া থানার এই সাব-ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ দাস মাত্রাতিরিক্ত মদমত্ত অবস্থায় কর্তব্যরত অবস্থায় থাকাকালীন সময় উশৃঙ্খলতা সহ মাতলামি’তে অতিষ্ঠ করে তুলে থানা সহ থানার আশপাশ এলাকাকে।
তেলিয়ামুড়া থানা সূত্রে খবর, সোমবার রাতে তেলিয়ামুড়া থানায় দীপাবলি উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত কালী পূজার ঘটের উপর থেকে চুপিসারে কাপড় হাফিস করার সময় পূজার ঘট সহ পূজার সামগ্রী মদের নেশায় এদিক ওদিক ছিঁটকে ফেলে দেয় ওই মাতাল সাব-ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ দাস।
মাতাল সাব-ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ দাসের একের পর এক এহেন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তেলিয়ামুড়া থানা কর্তৃপক্ষ মাতাল সাব ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ’কে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, রাজ্যের মধ্যে একটি স্বনামধন্য থানা বলে পরিচিত তেলিয়ামুড়া থানার এই সাব-ইন্সপেক্টরের এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য আরক্ষা মহল জুড়ে ছিঃ ছিঃ রব বইছে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, গত দূর্গা পূজায় এই সাব ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ দাস নেশাগ্রস্থ অবস্থায় সাধারণ মানুষজন’কে হেনস্থা সহ মারধোর করেছিল। যার সংবাদও রাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল ফলাউ করে। কিন্তু তারপরেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ওই সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি রাজ্য পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। এখন এটাই দেখার বিষয় উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সহ তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ সাব ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ দাস’কে গ্রেফতার করার পর কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
