সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ৯ জুন || গত ৬ই জুন রাতে গণ্ডাছড়ায় রেগার কাজ বণ্টনকে কেন্দ্র করে শাসক জোটের শরিক দল, আইপিএফটি এবং তিপ্রা মথা দলের কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘর্ষের রেশ না কাটতেই রবিবার রাতে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সাহাজান ইসলামের বাড়িতে দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনা ঘটে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এদিন সন্ধ্যায় রাইমাভ্যেলী ব্লক কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলীয় কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
রাইমাভ্যেলী ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রঞ্জিত ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুব কংগ্রেস সভাপতি বাদল সরকার, কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ বণিক, রাইমাভ্যেলী ব্লক কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সহ-সভাপতি মানিক সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জানা গেছে, গত ৬ই জুন রাতে গণ্ডাছড়া মহকুমার পাখি ত্রিপুরা পাড়া গ্রামে রেগার কাজ ভাগাভাগি নিয়ে আইপিএফটি এবং তিপ্রা মথা দলের কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন এবং বহু সম্পত্তি, যার মধ্যে বাড়ি, গাড়ি ও মোটরসাইকেলও রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এই ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন স্থানীয় সাংবাদিক সুব্রত দাস। আক্রমণে গুরুতর আহত হয় সাংবাদিক সুব্রত দাস। তাকে প্রথমে গণ্ডাতুইসা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে কুলাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর ত্রিপুরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (JAT) একটি প্রতিনিধি দল আহত সাংবাদিকের বাসভবনে যান এবং পরে মহকুমা পুলিশ অফিসার সৌগত চাকমার সঙ্গে দেখা করে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পুলিশ অফিসার উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রবিবার রাতে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সাহাজান ইসলামের বাড়িতে দুষ্কৃতীদের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, শাসক দলের মদদপুষ্ট দুষ্কৃতীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও আক্রমণ চালায়। এই হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাহাজান ইসলাম সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে মন্তব্য করেছিলেন, যার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাইমাভ্যেলী ব্লক কংগ্রেসের সাংবাদিক সম্মেলনে এই সমস্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রঞ্জিত ত্রিপুরা বর্তমান সরকারের অধীনে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপর হামলা ত্রিপুরায় গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তুলছে। যুব কংগ্রেস সভাপতি বাদল সরকার এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গণ্ডাছড়ার ঘটনায় জড়িতদের এবং সাহাজান ইসলামের বাড়িতে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, এই ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাস চলতে থাকলে কংগ্রেস বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।
রাইমাভ্যেলী ব্লক কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেবেন। সামগ্রিকভাবে, পরপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলি ত্রিপুরায় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
